বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
মক্কা চুক্তির আওতায় হামলা চালাতে অন্য দেশে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক উল্লাপাড়ায় ভেজালবিরোধী যৌথ অভিযান ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত নওগাঁয় শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত  কাজিপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের সচেতনতা সপ্তাহ ‘স্যান্ডপেপারগেট’ কেলেঙ্কারি’-র পর দক্ষিণ আফ্রিকায় স্মিথরা কাজিপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন  উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শাবিতে নতুন ঠিকানায় চাইনিজ কর্নার স্থানান্তর, থাকছে সংস্কৃতি চর্চার উন্মুক্ত পরিসর জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জন করতে হবে: নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের আইজিপি সেন্টমার্টিনে ৪২ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা-হেরোইন জব্দ
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

মক্কা চুক্তির আওতায় হামলা চালাতে অন্য দেশে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক

অনলাইন ডেস্ক: / ৩৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
-(বাঁ থেকে) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ/ফাইল ছবি

মক্কা চুক্তির আওতায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে কোনও সদস্যদেশের ভূখণ্ডে তুরস্ক সেনা মোতায়েন করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

তিনি বলেছেন, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করা নয়; বরং কোনও সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তাকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া।

বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাকান ফিদান বলেন, “মক্কা চুক্তি অনুযায়ী কোনও সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তাকে রক্ষা করবে। এটি কোনও আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়।”

তিনি আরও বলেন, অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক সেনা পাঠাবে না।

চুক্তি তুর্কি পার্লামেন্টে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন
মক্কা চুক্তিকে তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান ফিদান।

তিনি বলেন, চুক্তিটি তুর্কি পার্লামেন্টে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে এর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদির ওপর হুতিদের হামলা ঠেকাতে সহায়তার পথ খুঁজছে তুরস্ক
ইয়েমেনের ইরানঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা তুরস্ক পর্যালোচনা করছে বলেও জানিয়েছেন ফিদান।

তিনি বলেন, ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের ওপর চালানো হামলা মোকাবিলায় রিয়াদকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আঙ্কারা কাজ করছে।

তবে এ সহায়তার ধরন কী হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। একই সঙ্গে তুরস্কের সেনা অন্য কোনও দেশে গিয়ে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করবে না- এ অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মধ্যেই সীমিত থাকবে বলে ফিদানের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মক্কা চুক্তি আক্রমণাত্মক জোট নয়
মক্কা চুক্তির প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিদান বিশেষভাবে এর প্রতিরক্ষামূলক চরিত্রের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, কোনও সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে অন্য সদস্যদেশগুলো তার পাশে দাঁড়াবে-এটাই চুক্তির মূল নীতি। কিন্তু সেই নীতির অর্থ এই নয় যে সদস্যদেশগুলো অন্য কোনও দেশে গিয়ে সামরিক হামলা চালাবে।

তুরস্কের এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মক্কা চুক্তির সামরিক প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ইসরায়েলের নির্বাচনের পরও নীতিতে বড় পরিবর্তন আশা করছে না আঙ্কারা
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনও পরিবর্তন হবে বলে তুরস্ক আশা করছে না বলেও জানান ফিদান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বিশেষ কোনও পরিবর্তন’ হবে বলে আঙ্কারা প্রত্যাশা করছে না।

ফিলিস্তিন ইস্যু, গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আঙ্কারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো
মক্কা চুক্তিকে ঘিরে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে উঠছে। চুক্তিটির মূল নীতি হলো- কোনও সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আক্রান্ত দেশকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে না দেখানোর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কীভাবে রিয়াদকে সহায়তা করবে, তা এখন মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর