শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

চা খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাড়বে উৎপাদন ও রপ্তানি

অনলাইন ডেস্ক: / ৪৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের চা খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাগানের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ, সুদ কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

দেশের চা শিল্পকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে খাতটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিটির প্রথম সভায় চা খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদনের বাকি অংশ রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রথমে দেশের চাহিদা পূরণ এবং এরপর রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উৎপাদন ও চায়ের গুণগত মান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশের বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকেরা সবুজ চা, অর্থোডক্স চা, সাদা চা ও সিটিসি পদ্ধতিতে তৈরি কালো চাসহ বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন করছেন। বিভিন্ন কোম্পানি মিশ্রণের মাধ্যমে নতুন স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের চা তৈরি করে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলছে।

চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন পদ্ধতি, চায়ের মিশ্রণ তৈরি এবং রপ্তানি উন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো বাগান আধুনিকায়নে গুরুত্ব

কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর চাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত। নার্সারিসহ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি অবশিষ্ট রয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের আগে এসব জমির ব্যবহার, বাগান পরিচালনা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে দেশে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। দেশে প্রতি হেক্টরে গড় চা উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫৫২ কেজি।

উৎপাদনের এই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অনেক বাগানের চা গাছ বেশ পুরোনো। কোনো কোনো গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর বা তারও বেশি। পর্যাপ্ত হারে নতুন চা গাছ লাগাতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় কম উৎপাদনশীলতার কারণে উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা চাপে রয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, চা খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

তিনি মনে করেন, শুধু ঋণনির্ভরতা দিয়ে এ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা শিল্পকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতায় পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব, কর ও মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে।

সহনীয় সুদে ঋণ ও আর্থিক পুনর্গঠন

চা খাতের উন্নয়নে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঋণের চাপ। কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, চা খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণ ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ৫১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

আর্থিক চাপ কমিয়ে সম্ভাবনাময় চা বাগানগুলোর উৎপাদন ও বিনিয়োগ সচল রাখতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচনা হয়েছে। এছাড়া চা উৎপাদন ও বিনিয়োগে সহায়তা দিতে ৬ শতাংশ সুদে একটি আবর্তক তহবিল গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান ১৮ হাজার কোটি টাকার আবর্তক পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ অর্থ থেকে ঋণগ্রহীতাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন।

চা খাতের জন্য আলোচিত ৬ শতাংশ সুদের আবর্তক তহবিল এবং বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দুটি পৃথক উদ্যোগ। কোনোটিই এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত সুবিধা হিসেবে কার্যকর হয়নি।

এছাড়া চা উৎপাদনে নেওয়া ঋণের সুদের হার বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে আনার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টাসহ কয়েকটি ফসলের ক্ষেত্রে প্রচলিত রেয়াতি সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

কৃষিঋণের সুবিধা পাওয়ার উদ্যোগ

চা চাষকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও সভায় আলোচনা হয়েছে। এর ফলে চা উৎপাদকেরা কৃষি খাতের জন্য প্রযোজ্য রেয়াতি ঋণসুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ড এ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, চা খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে চারা রোপণ, গাছের পরিচর্যা, ছাঁটাই ও পাতা সংগ্রহ—যা মূলত কৃষিকাজের অন্তর্ভুক্ত। বাকি ৪০ শতাংশ কার্যক্রম শিল্পভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে শিল্প মন্ত্রণালয় বর্তমান প্রস্তাবের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ চা প্রক্রিয়াজাতকরণকে শিল্প কার্যক্রম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে চা খাতকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প আয়ের সুযোগ

চা বাগানের যেসব জমি চা চাষের উপযোগী নয়, সেসব জমিতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাগানের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চা কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিভিত্তিক বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে কমিটি। বিশেষ করে চা উৎপাদন এলাকা ও হাওর অঞ্চলের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় চা-বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বিকল্প বনায়ন, কৃষিকাজ এবং অন্যান্য আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও এসেছে। এ ক্ষেত্রে জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগ ও নেট মিটারিংয়ের মতো ব্যবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

রপ্তানি বাড়াতে বিশেষায়িত চায়ে নজর

দেশের চায়ের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণেও নতুন সম্ভাবনা দেখছে সরকার। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কেজি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

দেশের চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে অর্থোডক্স ও বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিংয়ের উন্নয়ন, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ধরনের চা উৎপাদনে বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের উদ্যোগও রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।

বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর

চা খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ও ঋণসুবিধার পাশাপাশি বাগানগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। প্রতিটি বাগানের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পৃথক কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো যথাযথ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সাপেক্ষে বাস্তবায়িত হলে চায়ের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বাগানগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর