বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযানে আটক ২৯৯ জন দ্রুতসময়ে মজুরি বাস্তবায়নের আশ্বাস পোশাকশিল্প মালিকদের জামিন নিতে সিএমএম আদালতে পরীমনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত, এবার সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সিরিয়ার এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আবেদন শুরু আজ, যেভাবে করবেন ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় টানা চতুর্থ দিন কমল তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাব বিশ্ববাজারে, কমল ডলারের দাম ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি সরবরাহের পথ খুলছে কাতার সিলেট টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে উইন্ডিজ, বাংলাদেশের একাদশে দুই পরিবর্তন ইরান যুদ্ধের কারণেই রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়, স্বীকার করলেন ভ্যান্স
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক: / ৫৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
-সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান অভিবাসীদের একটি বড় দলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহায়তাকারী আফগানদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

তবে তালেবান শাসিত দেশে ফেরত গেলে তাদের কেউ কেউ নিপীড়ন ও প্রতিশোধের শিকার হতে পারেন- এমন আশঙ্কায় পরিকল্পনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে আটক আফগানদের একটি দলকে প্রথমে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছিল, এভাবে ১৫০ জনের বেশি আফগানকে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফগানদের অন্যতম বড় একক বহিষ্কার অভিযান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষও রয়েছেন, যাদের স্বজনেরা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তালেবানের প্রতিশোধের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীরা। অন্তত একজন সমকামী ব্যক্তিও বহিষ্কারের তালিকায় রয়েছেন বলে এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের আরেক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে পরিকল্পিত বহিষ্কার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৬৬ জন সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ২ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনকে পাঠানো চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে এসব মানুষের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন এমনকি প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে সহায়তা করা আফগানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নৈতিক দায়িত্ব ওয়াশিংটনের রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তালেবান প্রশাসনও। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি বলেছেন, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর খবর তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অন্য দেশের নাগরিকদের ভাগ্য নিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের দর-কষাকষি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বহিষ্কার পরিকল্পনায় সাময়িক বাধা এসেছে। ৩ নভেম্বর নিউইয়র্কের এক ফেডারেল বিচারক ভ্যালেরি ক্যাপ্রোনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে শনিবার পর্যন্ত আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে বহিষ্কার না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে সরকারি আইনজীবীরা জানান, সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত আফগানদের বহিষ্কারের জন্য কোনো চার্টার্ড বা বাণিজ্যিক ফ্লাইট নির্ধারিত নেই। বিচারকের আদেশে সরকারকে আদালতে দেওয়া এই বক্তব্য মেনে চলতে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসনকর্মীরা আদালতের আদেশকে স্বাগত জানালেও এটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, আদেশের মেয়াদ শেষ হলে বহিষ্কারের উদ্যোগ আবারও শুরু হতে পারে। ফলে আটক আফগানদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এ কারণে সরাসরি আফগানিস্তানে বহিষ্কারের পরিবর্তে পাকিস্তান হয়ে তাঁদের পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই ব্যবস্থায় কী ভূমিকা নেবে, সে বিষয়ে দেশটির সরকার প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি।

তথ্য সূত্র- এপি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর