বছরের শুরুতে নয়, বরং চলতি বছরের শেষেই দেশের শতভাগ স্কুলশিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন। গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পশিহারার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
ঢাকা মহানগর ও পূর্বাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখতে তিনি ওই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে নতুন পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করবে।
প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হচ্ছে ‘খেলাধুলা’ এবং ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বই। নতুন এই বইগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করাতে এবং শিক্ষার মান যাচাই করতে দেশের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবেই তিনি হঠাৎ রূপগঞ্জের পশিহারার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নতুন বইগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেন।
‘খেলাধুলা’ বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, সাঁতার, দাবা এবং মার্শাল আর্টের মতো আটটি প্রধান শৃঙ্খলা ও শরীরচর্চার মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার নিয়মকানুনের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক প্রশান্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে। অন্যদিকে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি সাজানো হয়েছে দেশের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বইটিতে সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ছেলেমেয়েরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে এবং তাদের সঠিক মানবিক বিকাশ ঘটে।
শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছানোর সময় প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন স্পষ্ট করে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোপুরি ১০০ ভাগ বই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। পহেলা জানুয়ারির জন্য অপেক্ষা না করে, ডিসেম্বরের শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা যেদিন স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল নিতে আসবে, সেদিনই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বইগুলো তুলে দেওয়া হবে। একটি সুস্থ, সংস্কৃতিমনা ও মেধাবী জাতি গঠনে নতুন পাঠ্যবইগুলো একটি কার্যকর মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।