ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই আসনের অপর প্রার্থী শাহ্ মো. আবু জাফরের দায়ের করা আপিলের শুনানি আগামী শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন তার মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থী শাহ্ মো. আবু জাফর নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি দাবি করেন, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় খন্দকার নাসিরুল ইসলামের দাখিল করা নথিপত্রে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
আপিল আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নাসিরুল ইসলামের দাখিল করা আয়কর সনদ তার নিজের নামে ইস্যুকৃত নয়। পাশাপাশি আয়কর নথিতে প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে হলফনামায় উল্লেখিত তথ্যের মিল নেই। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি কাগজপত্র আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
শাহ্ মো. আবু জাফরের অভিযোগ, এসব ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল না করে সংশোধনের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সুযোগ দিয়েছেন, যা নির্বাচনী বিধিমালার সুস্পষ্ট ব্যত্যয়। এ কারণে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন জানান। একই সঙ্গে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শাহ্ মো. আবু জাফর বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছি। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সুষ্ঠু সিদ্ধান্তই কাম্য।’
এদিকে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, ‘জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই খন্দকার নাসিরকে সুবিধা দিয়ে আসছেন। আমরা এই পক্ষপাতমূলক আচরণ মানি না। আশা করছি, ইসি নাসিরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করবে।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুরে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় অসম্পূর্ণ, ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল না করে হলফনামা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়, যা নিয়ে নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তিনি কয়েকটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তবে এসব তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ফরিদপুর-১ আসনের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী লিখিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
এছাড়া নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা ব্যাংকের ফরিদপুর শাখায় ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি।