বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন ও মেসার্স নাবিল ফিলিং স্টেশন ও হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের প্রবেশ বাহির পথ বন্ধের প্রস্তাব ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এ প্রস্তাবের প্রতিবাদে গত বুধবার দুপুরে ছোনকা মেসার্স নাবিল ফিলিং স্টেশন ও হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের সামনে এলাকাবাসী ও অত্র প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছে।
মানবন্ধনে আসা স্থানীয়দের আশঙ্কা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এলাকার জনন, এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী, দূরপাল্লার যানবাহনের চালক-শ্রমিক এবং পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের মুসল্লিরা চরম ভোগান্তির শিকার হবে।
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সাসেক-২ এর আওতায় মহাসড়কের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আলোচিত ইউটার্ন ও প্রবেশপথ বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, জনস্বার্থে ব্যবহৃত এই পথ বন্ধের আগে যথাযথ সমীক্ষা, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের একই রুটে অবস্থিত অন্যান্য ফিলিং স্টেশন ও সেবামূলক স্থাপনায় প্রবেশ ও বাহির পথ বহাল থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্থানের ইউটার্ন ও প্রবেশপথ বন্ধ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে করে আশপাশের বসতিপূর্ণ এলাকা ও মহাসড়কসংলগ্ন মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়ে আগত মুসল্লিদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতে পারে, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মেসার্স নাবিল ফিলিং স্টেশন ও হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২৬ আগস্ট ২০২৩ তারিখে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করেই কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যাদের জীবিকা সরাসরি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি আরও জানান, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে ভারী যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, চালক ও শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। ফিলিং স্টেশনটি ১২টি মেশিনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে, যা মহাসড়কের স্বাভাবিক যান চলাচলে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
মানবন্ধনকারী সোলাইমান, গোলাম, আকবর, রবিউল ইসলামসহ অনেকে বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কেবল প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল, ধর্মীয় কার্যক্রম ও জরুরি সেবার বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকে, তবে তা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ইউটার্ন ও প্রবেশপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনস্বার্থ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প পথের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ সাসেক-২ (ডব্লিউপি-৭) প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার-৩ বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে প্রচলিত আইন, বিদ্যমান অনুমোদন এবং জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্তমান ইউটার্ন ও প্রবেশপথ বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত, জীবিকা ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুন্ন না হয়।