গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকায় বসতবাড়ির জমি জবরদখলের চেষ্টা, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার শিরিরচালা তালগাছিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল হোসেন (৬৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিরিরচালা মৌজার এসএ ও আরএস খতিয়ানভুক্ত বংশানুক্রমিক ৯.২২ শতাংশ বসতবাড়ির জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। কয়েক মাস আগে সেলিনা আক্তার নামের এক নারীর মাধ্যমে ওই জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক শালিসের আয়োজন করা হলেও বিবাদীরা কোনো সমঝোতায় আসেনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে বিবাদীরা এর আগেও একাধিকবার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জমিটিতে ১৪৫ ধারা জারি করেন।
কিন্তু গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিবাদী মঞ্জুরুল ইসলাম, সোহেল, জয়নুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, আছান আলীসহ ১০–১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ আবুল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। পরিবার সদস্যরা বাধা দিলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল হোসেন, তার ছেলে মনির হোসেন (৩৫) এবং মেয়ে আফরোজা আক্তারকে (৩৬) বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এসময় তারা ঘরের দরজা ভেঙে আলমারিতে থাকা নগদ ১০ লাখ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা) লুট করে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। ভুক্তভোগীরা ডাকচিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সময় আমি ও আমার সহকর্মীরা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ আমার কাছে ফোন আসে—আবুল হোসেনসহ কয়েকজন এক ব্যক্তিকে মারধর করছে, আমাকে দ্রুত যেতে বলা হয়। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, বসতবাড়িতে হামলা বা লুটপাটের যে অভিযোগ আনা হয়েছে—এসব সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। এসব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
এবিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।