বগুড়া বগুড়ার শেরপুরে এক স্কুলছাত্রীর অজান্তে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বাদী হয়ে শেরপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নামধারী দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মামলার প্রধান আসামি এরশাদ শিকদার ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীর অজান্তেই কৌশলে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল অভিযুক্তরা। তারা কিশোরীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
দাবিকৃত টাকা না পেয়ে গত ২৭ মার্চ অভিযুক্তরা ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অবশেষে শুক্রবার রাতে পরিবারের সহযোগিতায় আইনের আশ্রয় নেয়। মামলায় এরশাদ শিকদার, কৌশিক ও সুরাইয়া নামের তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, মামলা দায়েরের পরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের হেফাজত থেকে অপরাধের আলামত হিসেবে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা সবাই শেরপুর পৌর শহরের বাসিন্দা। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। মামলার বাকি আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত এই অপরাধের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।