বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার তুলাসন গ্রামে হাজারিকা এলাকায় সরকারি খাস জায়গার গাছ জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং স্থানীয় নায়েবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার রাত ৯টায় শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিযোগকারী জিয়াউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস আলী, সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়া, আশরাফ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
লিখিত বক্তব্যে জিয়াউর রহমান জানান, নন্দীগ্রাম উপজেলার হাজারিকা মৌজার ১৬০৯ দাগের সরকারি খাস জায়গার ওপর থেকে তুলাসন গ্রামের চান আলীর ছেলে রজিব উদ্দিন জোরপূর্বক প্রায় ৬০টি ইউক্যালিপটাস ও বাটুল গাছ কেটে নিয়ে যান। বর্তমান বাজারে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর পক্ষে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকারকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী, ১ নং বুড়াইল ইউনিয়নের নায়েব আবুল কালাম আজাদ এবং সরকারি সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গা মেপে সীমানা নির্ধারণ করেন। গত ৯ই মার্চ ২০২৬ তারিখে সার্ভেয়ারের দাখিলকৃত রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, কর্তনকৃত গাছগুলোর মধ্যে ২৬টি গাছ সম্পূর্ণ সরকারি খাস জায়গার ভেতরে ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সরকারি প্রতিবেদনে গাছগুলো খাস জায়গার বলে প্রমাণিত হলেও ১ নং বুড়াইল ইউনিয়নের নায়েব আবুল কালাম আজাদ রহস্যজনকভাবে অভিযুক্ত রজিব উদ্দিন ও তার ছেলের পক্ষ নিয়েছেন। নায়েব মোটা অংকের উৎকোচ (ঘুষ) গ্রহণ করে সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সীমানা নির্ধারণের সময় আমরা স্বচক্ষে প্রমাণ পেলেও প্রশাসনের এমন নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারী রজিব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দুর্নীতির দায়ে সংশ্লিষ্ট নায়েব আবুল কালাম আজাদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে তারা পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।
এ বিষয়ে নায়েব আবুল কালাম আজাদ, রজিব উদ্দিনই আমাদের উপর মামলা করেছে। এখানে প্রসাসনিক জটিলতা রয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।