হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত করিমগঞ্জের বালিখোলা ঘাটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ।
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের সমন্বয়ে একটি টেকসই নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বালিখোলা ঘাট পরিদর্শনে যান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি জেলা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পর্যটক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাওরের পর্যটন মৌসুমজুড়ে এবং বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর থাকবে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো পর্যটক বালিখোলা ঘাটে আসেন। পর্যটকদের যাত্রা নিরাপদ রাখা, চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, বখাটেদের উৎপাত রোধ এবং নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বালিখোলা ঘাট ও হাওরের বিভিন্ন নৌপথে জেলা পুলিশের বিশেষ টহল টিম মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নৌ-ভ্রমণের সময় প্রতিটি নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা ও তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মাঝিদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘাট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ হেল্প ডেস্ক ও কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি নৌকার ভাড়া, পার্কিং ফি ও খাবারের দোকানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকাতে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
যানজট নিরসনে ঘাট এলাকায় পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পৃথক নিরাপদ জোন নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সবাই যেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”