বর্তমানে সারাদেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবু তালিবের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান।
এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান নির্দেশিকা, ২০১৯’ মোতাবেক সারাদেশে জেলের তালিকা যাচাই-বাছাই করে হালনাগাদকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশে বর্তমান নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন। ঝিনাইদহ জেলার সদর (আংশিক) ও কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকৃত জেলেদের শনাক্তকরণ এবং হালনাগাদ জেলে তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কারপূর্বক মাছ চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মৎস্য অধিদফতর কর্তৃক ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’র ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলায় সাগান্না বাঁওড় ও কালীগঞ্জ উপজেলায় সর্জাদ বাঁওড় ও মর্জাদ বাঁওড়-এ পর্যায়ক্রমে নিম্নোক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে– সাগান্না বাঁওড় ২০৮৪০.৫১ ঘন মি. এবং সজ্জাদ বাঁওড় ৪২৫৭.১৭ ঘন মি. খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার; দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রজনন নিশ্চিত করতে ওই তিনটি বাওড়ে মোট তিনটি অভয়াশ্রম স্থাপন; প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ওই তিনটি বাওড়ে মোট ৩০টি বিল নার্সারি স্থাপন; দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানসম্মত মাছের পোনা অবমুক্তকরণ; বাঁওড় সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের সম্পৃক্ত করে জলাশয়ের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির জনবল সভা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পিইসি সভার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জলাশয় সংস্কার ও নাবাসস্থল উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে পার্বত্য তিনটি জেলা বাদে সারাদেশের সব উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে।