শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
রাজধানীতে গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার নওগাঁয় একটি ক্লিনিকে ২টি জমজ সন্তান জন্ম নিলেও ১টি সন্তান উধাও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদলের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা রাশিয়ার কাছ থেকে ৯০ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাচ্ছে ইরান এক দশকে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণ কুমিল্লায় কাশ্মীরি মেডিকেল শিক্ষার্থী মৃত্যু, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর নির্বাচনে বড় হার, স্বপদেই থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী? চলতি বছরের শেষেই স্কুলশিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পাবে রাশিয়ার হয়ে গোয়েন্দা-অস্ত্র সরবরাহ, পোল্যান্ডে গ্রেফতার ৬
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

বাবা ফিরবে না জেনেও দরজায় চার এতিম শিশু: ফটিকছড়িতে পরিবারের করুণ আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬



চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভোজপুর ইউনিয়নের শিকদারপাড়া। গ্রামের এক কোণে একটি জরাজীর্ণ ভাঙা ঘর। যে ঘরের চারপাশে এখন শুধুই শূন্যতা, হাহাকার আর অন্তহীন প্রতীক্ষা। দরজার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে চারটি নিষ্পাপ শিশু—তারা এখনও পথ চেয়ে থাকে এই বুঝি বাবা কাজ শেষে হাত ভর্তি খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরবে! কিন্তু সেই বাবা যে আর কোনোদিন ফিরবে না, তা পুরোপুরি বোঝে ওঠার বয়সও তাদের হয়নি।

সম্প্রতি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মোহাম্মদ হাশেম হুট করেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন স্ট্রোক) জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। হাশেম স্থানীয় মির্জারহাট বাজারে ছোট একটি দোকান চালিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করতেন। নিজের শত কষ্ট হলেও সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে আজ দিশেহারা পুরো পরিবার।

হাশেমের চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে তাকওয়াহানী স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। সে কিছুটা বাবার অবর্তমান বুঝতে পারলেও ছোট তিন ভাইবোন—তকীর, তকিব ও জান্নাত এখনও বুঝে উঠতে পারছে না তাদের জীবনের বড় বাস্তবতাকে। সারাদিন তারা দরজার কোণে দাঁড়িয়ে থাকে বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়।

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। স্বামী হারিয়ে চার সন্তানকে কীভাবে দু’মুঠো অন্ন জোগাবেন, সেই চিন্তায় শিউরে উঠছেন মা রুখসানা আক্তার। অন্যদিকে, সন্তানহারা বৃদ্ধা শাশুড়ির বুকফাটা কান্না ও আর্তনাদে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে প্রতিদিন।

বাস্তবতা এতটাই নির্মম যে, বর্তমানে এই পরিবারটির ঘরে ঠিকমতো চাল নেই। মাথার ওপরের জরাজীর্ণ টিনের চালে অজস্র ফুটো—বৃষ্টির দিনে পানি পড়া ঠেকানোর উপায়ও নেই। চারদিকে কেবল চরম অভাবের হাহাকার। অবুঝ এই চার এতিম শিশুর পড়াশোনা ও বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

স্থানীয়রা বলছেন, সমাজ ও দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষগুলোর একটু সহানুভূতি এবং মানবিক সহায়তাই পারে এই অসহায় পরিবারটিকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস যোগাতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর