নওগাঁয় একটি ক্লিনিকে ২টি জমজ সন্তান জন্ম নিলেও ১টি সন্তান উধাও
নওগাঁ প্রতিনিধি :
/ ৩৬
বার দেখা হয়েছে
আপডেট :
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
শেয়ার করুন
নওগাঁর একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের মধ্যে একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তান কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রসূতি শান্তনা আক্তারের গর্ভাবস্থায় গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার রিপোর্টেই গর্ভে যমজ জীবিত ভ্রূণ থাকার কথা স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। ১২ অক্টোবর: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা বলা হয়, যেখানে উভয়ের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার রেকর্ড করা হয়েছিল।
২১ অক্টোবর: নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে তাদের হৃৎস্পন্দন যথাক্রমে প্রতি মিনিটে ১৪৬ ও ১৪০ বার এবং সম্ভাব্য ওজন ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম বলে জানানো হয়।
প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তাঁর স্ত্রীকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই চিকিৎসকের মাধ্যমেই সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর একটি নবজাতক কন্যা সন্তান পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও দ্বিতীয় সন্তান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অর্থের প্রস্তাব দেয়। নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রসূতির আকুতি ও রোমহর্ষক অভিযোগ:
কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, “ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই আমি ক্লিনিকে ভর্তি হই। অপারেশন ও আল্ট্রাসনোগ্রাম অনুযায়ী আমি দুটি সন্তানের মা হওয়ার কথা জানতাম। কিন্তু সিজারের পর আমাকে কেবল একটি মেয়ে সন্তান দেখানো হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করেই প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়।
এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে আমাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, তাদের কথা না মানলে আমাকে এই অবস্থাতেই ফেলে রাখা হবে।
পরবর্তীতে আমার কাঁপুনি শুরু হলে বাধ্য হয়ে আমি তাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হই এবং চিকিৎসকের রাগারাগি ও হুমকির মুখে পেটের সেলাই সম্পন্ন করা হয়। আমি আমার দুটি সন্তানকেই ফিরে পেতে চাই এবং এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, “ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী হিসেবে তাঁর পরামর্শেই ওই প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চিকিৎসক নিজেই অপারেশন করেছেন। সন্তান একটি না দুটি হয়েছে, তা একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারবেন; এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, “নবজাতকের বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।