চিয়াসিড ও মধু পুষ্টিগুণে ভরপুর দুটি উপাদান। চিয়াসিড ও মধু পরিমিত পরিমাণে খেলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির মাত্রা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে চিয়াসিডে থাকা আঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে মধুর প্রাকৃতিক মিষ্টতা মিলিয়ে তৈরি হতে পারে পুষ্টিকর একটি খাবার।
তবে চিয়াসিড সরাসরি শুকনো অবস্থায় না খেয়ে আগে পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া ভালো। সকালে পরিমিত পরিমাণে ভেজানো চিয়াসিডের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে যেসব উপকার মিলতে পারে—
হজমে সহায়তা করতে পারে
চিয়াসিডে প্রচুর খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে এর আঁশ আরও ভালোভাবে কাজ করে।
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়ক
চিয়াসিড পানিতে ভিজলে ফুলে যায় এবং জেলির মতো আবরণ তৈরি করে। এতে থাকা আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দিতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনীয় নাশতা করার প্রবণতা কমতে পারে।
পুষ্টি জোগায়
চিয়াসিডে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পরিমিত চিয়াসিড যোগ করলে শরীর এসব পুষ্টি উপাদানের কিছুটা পেতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
চিয়াসিডে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ধরনের স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যতালিকায় যুক্ত হতে পারে।
দ্রুত শক্তি পেতে সহায়তা করে
মধুতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। তাই সকালে পরিমিত মধুর সঙ্গে চিয়াসিড খেলে দিনের শুরুতে কিছুটা শক্তি পাওয়া যেতে পারে।
শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক
চিয়াসিড পানি শোষণ করে ধরে রাখতে পারে। পানিতে ভিজিয়ে খেলে এটি শরীরে তরল গ্রহণের অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে চিয়াসিড খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
কীভাবে খাবেন
এক গ্লাস পানিতে এক থেকে দুই চা-চামচ চিয়াসিড দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে নিন। এরপর এতে এক চা-চামচের কম বা পরিমাণমতো মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। চাইলে লেবু বা টকদইয়ের সঙ্গেও চিয়াসিড যোগ করা যায়।
তবে চিয়াসিডে আঁশ বেশি থাকায় হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো। মধুতেও চিনি রয়েছে, তাই অতিরিক্ত মধু খাওয়া উচিত নয়। যাদের বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন, তারা নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।