মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে : কৃষিমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নের জন্য সমতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী ফেনীতে প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হরমুজ ঘিরে বড় সিদ্ধান্তহীনতায় যুক্তরাষ্ট্র মাগুরায় খুনের ঘটনায় বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ আহত ২০, বাড়িঘর ভাঙচুর কাজিপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কাজিপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান সবুজের বুক চিরে নান্দনিক সড়ক, হাতছানি দিচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

সবুজের বুক চিরে নান্দনিক সড়ক, হাতছানি দিচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের

জলিল রানা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি : / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

চিরায়ত (চিরায়ত শব্দের অর্থ হলো যা চিরকাল ধরে চলে আসছে, চিরন্তন বা ক্লাসিক (Classic)। সহজ কথায়, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়, সমাজ বা সীমার গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে সব যুগেই সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও সুন্দর থাকে, তাকে চিরায়ত বলা হয়) গ্রাম বাংলার (নৈসর্গিক একটি বিশেষণ পদ। এর অর্থ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি, প্রকৃতি-সংক্রান্ত, বা স্বাভাবিক। যা মানুষ তৈরি করেনি বরং প্রকৃতিতে নিজে থেকেই আছে, তাকে নৈসর্গিক বলা হয়। যেমন-নৈসর্গিক সৌন্দর্য এমন প্রকৃতিক সবুজ সৌন্দর্য পৃথিবীর শুরু এখন অবদি যে কাউকে কাছে টানে । এমনি এক দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠের বুক চিরে নির্মিত নান্দানিক সড়ক জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পৌরসভার মূলগ্রাম ও সীতাহার-নয়াপাড়া মাঠের ভেতরে যেন চির সবুজ ধানক্ষেতের বুক চিরে বয়ে গেছে আরসিসি সড়ক। রাস্তার দুপাশ জুড়ে নান্দনিক সারিবদ্ধ সুপারি গাছ, সৌরবিদ্যুৎচালিত স্ট্রিটলাইট,  টাইলস বসিয়ে  তৈরি করা হয়েছে বসার বেঞ্চ। বিস্তৃর্ণ সবুজ মাঠের বুকে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য মন কেড়েছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। একানে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের এক আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে এই নান্দনিক সড়কটি।

সরেজমিন দেখা গেছে মূলগ্রাম ও সীতাহার-নয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১ কি:মি: দীর্ঘ সড়ক । মূলগ্রামের ভেতরে আরও প্রায় ৯শ মিটার সড়কে বসানো হয়েছে পেভিং ব্লক। প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই দুটি সড়ক। দুপাশে সারি সারি সুপারি গাছের পাতার মৃদু দোল, মানানসই দূরত্বে সৌরচালিত স্ট্রিটলাইট আর মাঝে মাঝে বসার বেঞ্চ সব মিলিয়ে এই সবুজ প্রকৃতিকে পরিবেশকে দিয়েছে যেন নান্দনিক এক রূপ। সন্ধ্যার পর সোলার লাইটের আলোয় নিরাপদে চলাচল হয়ে উঠচে আরও সহজ,সাথে দিগন্তজোড়া সবুজ ফসলের মাঠ তৈরি করেছে এক অন্যরকম আবহ। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ সহ সব শ্রেণীর পথচারীর কাছে পথটি এখন যেন সকাল-বিকেলের হাঁটা, চলা ও অবকাশযাপনের এক প্রিয় ঠিকানা।

মূলগ্রাম মহল্লার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম,আশিক,ইমরান ও সফি বলেন, ‌‘মাত্র কয়েক বছর আগের ঘটনা, বর্ষা বা শুষ্ক মৌসুমে জমি থেকে ধান বা সবজি আনা-নেওয়া ছিল চরম কষ্টকর। সেই সড়কে এখন ট্রাক-ভ্যান,অটো সহ বিভিন্ন যানবাহন মাঠের কাছাকাছি যেতে পারছে। এতে করে একদিকে যেমন সময়, শ্রম সাশ্রয় হছে তেমনি পরিবহন ও খরচ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর পর মুচকি হসি দিয়ে বলে,‘ভাইরে  যুগ বদলাইছেনা’আগে কী দেখেছি, আর এখন কী দেখছি। সময়ের সাথে সবকিছুর পরিবর্তন ঘটেছে। যা মানুষের কল্যাণের জন্যই।’

সড়কটির নাস্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ,পৌরসভার আঁওড়া মহল্লায় বাড়ি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিরাজোম মুনিরা শাওন। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে এলেই যে কয়দিন থাকি; সে কয়দিনই ওই সড়ক দুটিতে বেড়াতে যাই। সারি বদ্ধ সুপারি গাছগুলো দেখে মনে হয় যেন আমাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসে খোলা মাঠের হাওয়া উপভোগ করা সত্যিই অসাধারণ।’

পৌর কার্যালয় সূত্র বলছেন, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গত ১ বছরে পৌর এলাকায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ কি:মি: রাস্তা ও ৫ কি:মি: ড্রেন নির্মাণ সহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। এখন এসব উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন পৌরসভার ২৩ হাজার ৬৬৩ জন নাগরিক সহ ভ্রমণ পিপাষু । জয়পুরহাট-২ আসনের সাংসদ, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর বিশেষ বরাদ্দে মূলগ্রাম, সীতাহার, থুপসাড়া, আঁওড়া, সড়াইল, মুন্সীপাড়া, পাঁচশিরা, স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ মোট ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী একযোগে ৩৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করার পর আমরা টেকসই ও আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায় দফায় সরেজমিন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে এসব নান্দনিক দৃশ্য দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য গাছ ফসলের আলো-বাতাসে বাধা সৃষ্টি করে জমির ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু সুপারি গাছ পরিবেশবান্ধব এবং ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। রাস্তার দুপাশে রোপণ করা ২ হাজার ৫০০টি সুপারি গাছ আছে। কয়েক বছরের মাথায় প্রতিটি গাছ বছরে দুই দফায় গড়ে ৬০০টি ফল দিলে সর্বনিম্ন ৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও প্রতি বছর সুপারি বিক্রি থেকেই পৌরসভার ফান্ডে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা বাড়তি রাজস্ব যোগ হবে। এটি কল্পনা নয়, বাস্তব হিসাব। আগামীতে প্রকল্পগুলোতেও টেকসই,পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী মডেল অনুসরণ করা হবে।’
‘‘আগামীর সুখী-সুন্দর,সমৃদ্ধ এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশব্যাপী প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্পগুলোতে টেকসই,পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী মডেল অনুসরণ করা সময়ের দাবী’’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর