সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তির ব্যবসায়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চীনে পাচারের অভিযোগে বেলজিয়াম ও চীনের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক জ্যেষ্ঠ গবেষককে আটক করেছে বেলজিয়াম পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাসেলসের প্রসিকিউটর কার্যালয়।
আটক ওই গবেষকের বয়স ৫২ বছর। তিনি বেলজিয়ামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। গত মে মাসে ব্রাসেলসের জাভেনতেম বিমানবন্দর থেকে বেইজিংগামী একটি বিমানে ওঠার ঠিক আগে তাকে আটক করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর আগপর্যন্ত তিনি কারাগারে বিচারপূর্ব হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই গবেষক বেলজিয়ামের মাইক্রোচিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেলগান’-এর উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘গ্যালিয়াম নাইট্রেড’ সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য পরিচিত ছিল। এ প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ ও সামরিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বেলগান দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বেলগানে কাজ করার পাশাপাশি ওই গবেষক গোপনে চীনে প্রতিষ্ঠিত একই প্রযুক্তির একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি একটি চীনা বিনিয়োগ তহবিলের অর্থায়নে গড়ে ওঠে। বেলগানের সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য ও বাণিজ্যিক গোপনীয়তা অবৈধভাবে ওই চীনা প্রতিষ্ঠানে পাচার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন কর্মকর্তারা।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এ মামলায় আরও একজন সন্দেহভাজন জড়িত রয়েছেন। তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের ধারণা, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এ বিষয়ে বেলজিয়ামে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে ইউরোপে, চীনকেন্দ্রিক প্রযুক্তি গোয়েন্দাগিরি ও তথ্য চুরির বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বেলগানের সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক তথ্য ফাঁসের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ।