মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

সিংড়ায় রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি: / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নাটোরের সিংড়ায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষকে হয়রানী এবং অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রামের অর্ধশত মানুষের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ টি মামলা করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

নাটোর জেলার সিংড়া থানার ১১ নং ছাতার দীঘি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। সে ঐ গ্রামের মৃত শাহাদাত মন্ডলের পুত্র।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন রফিকুল ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা এলাকার সাধারণ মানুষের উপর মিথ্যা মামলা সাজিয়ে বড় অংকের চাঁদা আদায় করছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে নওগাঁ জেলায় রফিকুলের শশুরবাড়িতে নিজের শ্যালিকার মৃত্যুকে হত্যা মামলার সাজিয়ে গ্রামের কয়েকজন নিরীহ মানুষের উপর হত্যা মামলা (মামলা নং সিআর ১২৭/০৮-নওগাঁ) করে রফিকুল ইসলাম, মামলার নথি অনুযায়ী দেখা যায় যেখানে তার শালিকা মারা যায় ১৯৯৩ সালে । এই মামলা তুলে নেওয়ার নাম করে গ্রামের কয়েকজনের নিকট হতে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি অনুযায়ী পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শাহাজান মন্ডলের ছেলে আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে একবার রফিকুল তার চাচা মকবুলের মাথায় নিজেই আঘাত করে শাহাজানের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং এই মামলায় শাহ্জানকে প্রায় ৩ মাস হাজতে থাকতে হয়। হাজতে থাকাকালীন শাহাজানের পরিবারের নিকট একই কায়দায় চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় বর্তমানে শাহাজান মন্ডলের পৌনে তিন বিঘা জমি জোর করে নিজের দখলে রেখেছে। যা অমানবিক। এ বিষয়ে তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে রফিকুল তার আপন চাচাতো ভাই দৌলত ও তাঁর ছেলেদের মধ্যে পারিবারিক একটি কলহ হয়েছিল। সেটিকে কেন্দ্র করে ১৪ নভেম্বর একটি মামলা রফিকুল দায়ের করে। পরবর্তীতে তা ২০১৭ সালে রায় ও হয়ে যায়। ২০২৬ সালে এসে ওই ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোঃ আশরাফুল মৃধা সহ কয়েক জনের উপর রফিকুল তার পিতার একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করে করে। মামলায় সে উল্লেখ করে তার বাবা ২০১৩ সালে মারা যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও এলাকাবাসীর তথ্যানুযায়ী আসলে রফিকুলের পিতা মোঃ শাহাদৎ আলী মন্ডল ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখে প্যারালাইসিস হয়ে মারা যায়।

স্থানীয় দৌলত মন্ডল সহ কয়েকজন জানান রফিকুল ইসলাম মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেন। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। কখন কার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করবে তা নিয়ে প্রশ্ন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, রফিকুল ইসলাম বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। ২০১৩ সালের মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। অথচ সেই মামলার প্রসঙ্গ এনে আবার মামলা দিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষকে হয়রানী করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমার লাঠি না থাকায় আমি আইনের আশ্রয় নিই। এছাড়া তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন আমাকে অবহিত করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে রফিকুলের মামলা বাণিজ্যে ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী । এলাকার মানুষ প্রশাসনের নিকট হতে রফিকুলের এই মামলা বাণিজ্যের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং এহেন কর্মকান্ড থেকে দ্রুত পরিত্রান চায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর