শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
৯/১১ ঘটনার ২৫ বছর: ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ না লিখতে সাংবাদিকদের নির্দেশ সিবিসির ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত, চীন-রাশিয়াকে নিয়ে চরম উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র ইনজুরি টাইমে জোড়া গোলে হার এড়াল পিএসজি বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ, এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক অঞ্চলে চলে আসছে বিশাল তিমি নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৪৮২ টেক্সাসের স্কুলে ছুরিকাঘাতে আহত ৩ শিক্ষার্থী, ১৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন আটক সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

শক্তিশালী তরুণদের দিকে নজর মানবপাচার চক্রের

অনলাইন ডেস্ক: / ১৬৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
-প্রতীকী ছবি।

দরিদ্র ও শারীরিক সামর্থ্যবান তরুণ-যুবকদের চিহ্নিত করে চক্র >ভুক্তভোগীদের পরিবার এখন লাখ লাখ টাকার ঋণে জর্জরিত

বেসামরিক কাজে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-যুবকদের টোপ দেয় মানবপাচার চক্র। তারপর রাশিয়ায় নিয়ে হাতে তুলে দেয় ভয়ংকর মারণাস্ত্র, ঠেলে দেওয়া হয় ইউক্রেন যুদ্ধে। কেউ কেউ মাত্র এক মাসের প্রশিক্ষণ পায়, আবার কেউবা বিনা প্রশিক্ষণেই যুদ্ধের ময়দানে। রাশিয়ায় যুদ্ধদাস পাঠাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী। বিশেষ করে চক্রটির নজর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী পুরুষদের দিকে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিক সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এর আগে, গত বছরের ২৮ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘রাশিয়ায় যুদ্ধে আট বাংলাদেশি’ শিরোনামে সর্বপ্রথম বাংলাদেশি তরুণদের ইউক্রেন যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার খবরটি প্রকাশ হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে এই ইস্যুতে প্রতিবেদন হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুসন্ধানেও একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছিল। তবে রাশিয়ায় মানবপাচার বন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে।

গত সোমবার মানবাধিকার সংগঠন দুটির প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে রাশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে এবং বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীসহ নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

‘আমাকে কৌশলে যুদ্ধে জড়ানো হয় : ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশি পুরুষদের জোরপূর্বক পাঠানো ও মানবপাচারের ঝুঁকি’-শীর্ষক ৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কিভাবে প্রতারণা, বল প্রয়োগ ও নির্যাতনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পুরুষদের ইউক্রেনে সম্মুখ সমরে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে, সেসব তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২২ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধে ঠেলে দিতে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পুরুষদের টার্গেট করে একটি চক্র। এর জন্য বেছে নিয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ। বেসামরিক ও নিরাপদ কাজের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানবপাচারে জড়িত দালালচক্র রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে জনবল সরবরাহ করছে। আন্তর্জাতিক আইনে এটিকে মানবপাচার বলা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন দুটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মানবপাচারকারী দালালচক্র প্রথমে ভুয়া কাজের কথা বলে ভুক্তভোগী বাংলাদেশি পুরুষদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে প্রলুব্ধ করে। তারপর রুশ ভাষায় লিখিত চুক্তিপত্রে তাঁদের স্বাক্ষর করানো হয়, যেটি ভুক্তভোগীরা পড়তেও পারেন না। এরপর তৃতীয় একটি দেশের মাধ্যমে তাঁদের পাচার করে দ্রুত রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোতে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ইউক্রেনে গিয়ে রাশিয়ার পক্ষে সৈন্য হিসেবে যুদ্ধ করতে তাঁদের বাধ্য করা হয়। অন্তত একজন বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগী বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জানানো হয়, তাঁকে ‘ক্রয়’ করা হয়েছে যুদ্ধ করার জন্য।

এরই মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া কিছু ভুক্তভোগী বলেছেন, কোনো উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। স্থলমাইন ও ড্রোন আক্রমণে তাঁদের কেউ কেউ আহত হয়েছেন। কমান্ডারদের মারধরের শিকার হয়েছেন অনেকে। বেতন আটকে রাখার পাশাপাশি কোনো ছুটিও তাঁদের দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। বাংলাদেশ থেকে তাঁদের পরিবার ঋণ করে তাঁদের বিদেশে পাঠিয়েছে। ফলে তারা লাখ লাখ টাকা ঋণে ডুবে আছে।

মাকসুদুর রহমান (৩১) নামের বেঁচে যাওয়া এক ভুক্তভোগীর বয়ান তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশি পাচারকারী দালালরা আমাকে বারবার নিশ্চিত করেছিল, কোনো সামরিক দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হবে না এবং যুদ্ধে আমার কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থনৈতিক চাপে উপায় না পেয়ে আমি রাজি হয়েছিলাম। অবশেষে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আমাকে ঢাকা বিমানবন্দরে নেওয়া হলো। আমার ফ্লাইট ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে তারপর রাশিয়ার দিকে যায়।’

মাকসুদুর রহমান বলেন, তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় পৌঁছান। আরও বলেন, ‘মস্কো বিমানবন্দরে পৌঁছালে দালালচক্র আরো অর্থ দাবি করে। সিসি ক্যামেরা এড়ানোর জন্য আমাদের (বাংলাদেশিদের) বিমানবন্দরের টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হয়। আমি চাপে পড়ে এক হাজার ডলার দিই।’

একই সঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন কিভাবে তাঁকে রাশিয়ার সামরিক কম্পাউন্ডে (চত্বর) নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “মস্কোর বিভিন্ন জায়গায় আমাদের স্থানান্তর করা হয় এবং পরে একটি সেনানিবাসে নেওয়া হলে প্রথমে সেখানে খাবার দিয়ে আমাদের কয়েক দিন রাখা হয়। তারপর হঠাৎ করে রাতে আরেক স্থানে আমাদের পাঠানো হয় এবং অনুবাদকের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয় যে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের ‘ক্রয়’ করা হয়েছে। যখন আমরা প্রতিবাদ করে বলি, আমরা বেসামরিক কাজের জন্য এসেছি, তখন আমাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং নির্যাতন করা হয়। আমাদের বলা হলো, রাশিয়ার সরকার আমাদের প্রত্যেকের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছে এবং আমাদের আর কোনো সুযোগ নেই।’

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের কুষ্টিয়াডাঙ্গি গ্রামের আরমান মণ্ডলের (২৩) সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানিয়েছিলেন কিভাবে তাঁকে বেসামরিক কাজের প্রলোভনে রাশিয়া যাওয়ার টোপ দেওয়া হয়েছিল। এরপর রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধদাসে পরিণতি বরণের নিষ্ঠুরতা হয়েছে তাঁর সঙ্গে।

আরমান মণ্ডলের বরাত দিয়ে মানবাধিকার সংগঠন দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারকারী দালালচক্র তাঁকে কৌশলে এই যুদ্ধে জড়িয়েছিল। তাঁর সঙ্গে যা করা হয়েছে তা অন্যায়। এছাড়া রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ফাঁদে পড়ে যেসব বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছে ফর্টিফাই রাইটস।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহমেদ ছদ্মনামের একজন ২২ বছর বয়সী ভুক্তভোগীর বাবা বলেছেন, ‘আমরা দালালকে মোট সাড়ে ৯ লাখ টাকা দিয়েছি। ছেলে প্রথমে একজন ওয়েল্ডার হিসেবে পাঁচ মাস কাজ করেছিল। তারপর সে ফোনে জানায়, রুশ সেনাবাহিনী তাঁকে ২০ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।’

আহমেদের পরিবার রাশিয়ান ভাষায় লেখা কিছু কাগজপত্র দেখালে তাতে বোঝা যায়, আহমেদ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে রাশিয়ার আমুর ওব্লাস্টের ব্লাগোভেশচেনস্ক শহরের চীনঘেঁষা সীমান্তে ওয়েল্ডার হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার ভিসাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ‘সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ রাশ এলএলসি’ নামে একটি রুশ এজেন্সির উল্লেখ আছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে অন্য ভুক্তভোগীদের পাচারের ক্ষেত্রেও এই এজেন্সিকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের আর্থিক সংকটের বর্ণনা দিয়ে আহমেদের মা বলেন, ‘আমরা গরিব পরিবার। আমরা তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ঋণ নিয়েছি এবং সেই ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য আমাদের নেই।’

আহমেদের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেকে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে নেওয়া হয়। আমাকে সে ফোনে বলেছিল, সে ইউক্রেনে যুদ্ধক্ষেত্রে আছে। আমার ছেলে রুশ ভাষা পড়তে পারে না। পরিণতি না জেনেই সে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিল। এজেন্সির দালালরা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। পরে আমরা কাগজগুলো অনুবাদ করালে দেখা যায়, এটা ছিল সশস্ত্র লড়াইয়ের দায়িত্ব নিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদানের চুক্তিপত্র।’ এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আহমেদের মৃতদেহ এখনো বাংলাদেশে ফেরত আসেনি।

অনুসন্ধানে একাধিক ভুক্তভোগীর কথা উঠে আসে। ওই ভুক্তভোগীদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ট্রুথ হাউন্ডসের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একজন নেপালির কথার হুবহু মিল পাওয়া যায়।  তাঁদের অভিন্ন ভাষ্য হলো, রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে কী লেখা ছিল তারা তা বোঝেননি। বলা হচ্ছিল, বেতন হবে তিন লাখ রাশিয়ান রুবল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ টাকা)। তাদের দেওয়া ভাষ্য মতে, তাদেরকে যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করার পর রাশিয়ান কর্মকর্তারা সব জিনিসপত্র কেড়ে নেন। তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল এবং পাসপোর্ট কেড়ে নেন।

দালালচক্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান

ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, চুক্তিকারী এজেন্সি ও কম্পানিগুলোকে কর্মী সরবরাহ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের শোষণ, বল প্রয়োগ বা নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাচারে জড়িত দালালচক্র ও চুক্তিকারী এজেন্সিগুলোকে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পালেরমো প্রোটোকল’-এর অধীনে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধে গৃহীত জাতিসংঘের চুক্তিতে রাশিয়া একটি স্বাক্ষরকারী দেশ। এ চুক্তি অনুযায়ী প্রতারণা, জালিয়াতি বা কারো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আদায় করা সম্মতি আইনিভাবে বৈধ নয়। চুক্তির ভাষা না বুঝে স্বাক্ষর করা কোনো ব্যক্তির সজ্ঞানে সম্মতি হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের পাচার করে ইউক্রেনে রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা যে নির্যাতনের চিত্র নথিবদ্ধ করতে পেরেছি, বাস্তবে তার পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এটি কোনো স্বাভাবিক অভিবাসন নয়, এটি শোষণ, যা মূলত মানবপাচার। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে এই পাচারচক্র ভেঙে দেওয়া এবং নিশ্চিত করা যে কোনো নাগরিক যেন জোরপূর্বক বিদেশি যুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হন। একই সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এবং মানবাধিকারের পক্ষে জোরালোভাবে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

ট্রুথ হাউন্ডসের নির্বাহী সহপরিচালক ওকসানা পোকালচুক বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জাতিগত বৈষম্যের শিকার মানুষদের রাশিয়া তার যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি কেবল জনবল সরবরাহের ঘটনা নয়, এটি পদ্ধতিগত শোষণের একটি চিত্র।

ট্রুথ হাউন্ডসের গবেষক মারিয়া টোমাক বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর রাশিয়া শোষণমূলক নিয়োগ কৌশলের দিকে ঝুঁকেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে নিরীহ মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের মাধ্যমে সৈন্য সংগ্রহের প্রবণতা বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ইউক্রেনের জনগণের দুর্দশা বাড়ছে, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিদেশি নাগরিকরা রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যের বলির পাঁঠা হয়ে উঠছেন।’

সৌজন্যে- কালের কণ্ঠ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর