বগুড়ার শেরপুরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে বেধড়ক মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং বিবস্ত্র করে নাচিয়ে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের অফিস ও বাড়িতে হামলা চালায়।
ঘটনার চারদিন পর বুধবার (১১ মার্চ) ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরভি (১৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে। ভুক্তভোগী কিশোর স্বপ্নীল (১৩) উপজেলার হামছায়াপুর এলাকার বাসিন্দা। তার ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে ধুনটমোড় এলাকা থেকে অভিযুক্তরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্তদের সঙ্গে পূর্বপরিচয় থাকায় ব্যাডমিন্টন খেলার সময় একটি ব্যাট ভেঙে যায়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে খন্দকার টোলা মোড়ে অবস্থিত ‘দীন প্রিমিয়াম’ নামক একটি অনলাইন শপের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তাকে বিবস্ত্র করে নাচতে বাধ্য করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। এছাড়া কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুলও কেটে দেয় অভিযুক্তরা।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের অন্যতম আলভী ও সুফিয়ান নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করলেও ঘটনার কারণ হিসেবে ভিন্ন দাবি করেছেন। তাদের দাবি, তাদের অনলাইন শপ থেকে পাঞ্জাবি চুরি করার অপরাধে কিশোরকে ধরা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই স্বপ্নীলের পরিবার বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছিল। একটি মহলের উসকানিতে এখন বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, মোঃ আব্দুল্লাহ আল সাদ (১৮), মোত্তালিব আলভী (১৮) (আটক), আহনাফ শাহরিয়ার জাহেন (২১), সিয়াম (১৯), সুফিয়ান শাহরি (২৬), সাদিকুর রহমান অয়ন ।
নির্যাতনের ভিডিওটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে ভাঙচুর চালালে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। একজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।