ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। সোমবার রাত নাড়ীর টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্জলের মানুষ। স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দা ভাগাভাগি করতে মানষু বাস, ট্রাকের ছাদ,ব্যক্তিগত কার-মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে ঘরে ছুটছে। এতে যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় ঢাকা-বগুড়া-রংপুর-রাজশাহী-পাবনা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে কোথাও কোন যানজট হয়নি। তবে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মহাসড়কে সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা ও হাইওয়ে মিলে ৮ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর থেকে যমুনা সেতুতে প্রতি ঘণ্টায় পারাপার হচ্ছে ২ হাজারেরও বেশি যানবাহন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজারের বেশি গাড়ী পারাপারের বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানান, সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন চলাচল। টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ২০ হাজার ৭৫টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ১৫ হাজার ৫৮৩ টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, সোমবার গভীর রাত থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়ছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত গাড়ীর চাপ সামলাতে সেতুর উভয় টোল প্লাজায় প্রান্তে ২টি করে অতিরিক্ত বুথ স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত ১৪টি বুথের জায়গায় ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, গাড়ীর সংখ্যা বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই গাড়ীগুলো চলাচল করছে। কোথাও কোন যানজট বা ধীরগতি নেই। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশসহ ৮ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন প্রায় দেড়শো সদস্য নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের প্রতিজন অফিসারের কাছে বডি ক্যামেরা রয়েছে।
মহাসড়কে তিন শিফটে পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে। নিয়মিত ডিউটির বাইরে পেট্রোল টিম, মোবাইল টিম ও পিকেট টিম মোতায়নে রয়েছে। গুরুত্বপুর্ন পয়েন্টে তাবু স্থাপন করে মাইকিং করে চালকদের সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ী গিয়ে স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে সেজন্য পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।