বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির আশীর্বাদ যখন মানুষের জীবনকে সহজ করছে, ঠিক তখনই এক শ্রেণির বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের হাতে তা হয়ে উঠছে ভয়াবহ মারণাস্ত্র। সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকায় এমনই এক লোমহর্ষক সাইবার অপরাধ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী তরুণী, যিনি সদ্য এইচএসসি পাশ করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন, তার সেই স্বপ্নে বিষ ঢেলে দিয়েছে মেহেদী হাসান মিনহাজ (২৪) নামক এক যুবক। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে মিনহাজ ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে। তবে এই সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্র। ধূর্ত মিনহাজ ভিডিও কলে কথা বলার ছলে কৌশলে তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখে, যা পরবর্তী সময়ে তার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে তরুণীকে সেই ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল মিনহাজ। লোকলজ্জার ভয়ে এবং সম্মান রক্ষার্থে তরুণীটি ওই যুবকের অনৈতিক আবদার মেনে নিতে বাধ্য হতো। এমনকি তাকে বিভিন্ন স্থানে দেখা করতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ মতে, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তাকে রিক্সায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানো এবং সুযোগ বুঝে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য অপরাধও করে আসছিল মিনহাজ।
গত (১৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার চরম পর্যায় নেমে আসে। অভিযুক্ত মিনহাজ ওই তরুণীকে শহরের পদ্মপুকুর এলাকায় দেখা করতে বলে। সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্জন পরিবেশে সে তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জাপটে ধরে এবং শ্লীলতাহানি শুরু করে। এক পর্যায়ে তরুণীটি ধস্তাধস্তি করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসে এবং লম্পট মিনহাজকে হাতেনাতে আটক করে।
আটকের পর ঘটনাস্থলে মিনহাজের অভিভাবক উপস্থিত হয়ে তরুণীর পরিবারের সাথে সমঝোতার অভিনয় করেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তারা মিনহাজকে জনরোষ থেকে মুক্ত করে নিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সটকে পড়েন এবং ভুক্তভোগী পরিবারটিকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রতারণা ও লাঞ্ছনার বিচার পেতে অবশেষে ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা সুলতান মাহমুদ সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারী নিরাপত্তার ভঙ্গুর চিত্রটিই ফুটিয়ে তোলে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একজন নারীর সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অপচেষ্টা রুখতে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি। ভুক্তভোগী পরিবার এখন তাকিয়ে আছে প্রশাসনের দিকে—কবে মিলবে এই নিষ্ঠুরতার প্রকৃত বিচার?