বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিরাজগঞ্জ শহরে ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৭৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার এ গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ জারি করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানার মধ্যে অন্য শীর্ষ নেতারা হলো- সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সাবেক মন্ত্রি পরিষদসচিব কবীর বিন আনোয়ার অপু, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার অপসারিত মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, সদর উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানী আরো বলেন, যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যা মামলায় মোট আসামি ১৯৫ জন। এর মধ্যে ৭০ জন জামিনে রয়েছেন। শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৫ আসামি পলাতক রয়েছেন।
বিএনপিকর্মী আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় মোট আসামি ১৭৮ জন। এর মধ্যে জামিনে রয়েছেন ৪৫ জন। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩৩জন পলাতক রয়েছেন।
আর বিএনপির কর্মী সুমন শেখ হত্যা মামলার আসামি ১৭৬ জন। জামিনে রয়েছেন ৫৭ জন। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১১৯ জন পলাতক রয়েছেন। ৩টি পৃথক মামলায় মোট পলাতক আসামির সংখ্যা ৩৭৭ জন। পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের গত ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ শহরে জেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু, বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ ও সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোহানুর রহমান রঞ্জুর স্ত্রী মৌসুমী খাতুন, আব্দুল লতিফের বোন সালেহা বেগম ও সুমন শেখের বাবা গঞ্জের আলী বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আদালতে ৩টি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে সদর থানা পুলিশ। তিনটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অপসারিত সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরী ও জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবুসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৫৪৯ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।