নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজেদের মাদক আস্তানাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান থেকে নিরাপদ রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালাতো মাদক কারবারিরা।
মঙ্গলবার (০৫ মে) র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার পর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিচালিত চিরুনি অভিযানে এসব তথ্য উঠে আসে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র এবং নজরদারি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৩ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সোহেল রানা (৪০), আবদুর রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), শামীম আহম্মেদ (২২), মিঠুন (৩৪), ইমন প্রধান (২৬), মো. আকাশ (৩০), মো. রুবেল (৩৭), আরাফাত হোসেন (২৮), মো. সুজন (৩২), মো. হৃদয় মিয়া (৩২), মো. টুটুল খান (৩৮) ও রেজাউল করিম (৪৮)।
বুধবার(০৬ মে) বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করত। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হতো, যাতে অভিযানের আগে দ্রুত সরে যেতে পারে তারা।
অভিযানে চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৫টি পিস্তলের গুলি, ১০টি ছুরি-চাকু, ৭টি চায়নিজ কুড়াল, ২টি রামদা, ৩টি চাপাতি এবং নগদ ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৩৫ কেজি গাঁজা ও ১১ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি। পাশাপাশি একটি টাকা গণনার মেশিন, ল্যাপটপ ও ওজন মাপার যন্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, চক্রটির মূল হোতা হিসেবে রাসেল ও রাশেদের নাম পাওয়া গেছে। তাদেরসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দেওভোগ লিচুবাগ এলাকায় সাদাপোশাকে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া র্যাবের গোয়েন্দা দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন সদস্য আহত হন। পরে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আস্তানা থেকে অস্ত্র, মাদক ও নজরদারি সরঞ্জামসহ ১৩ জনকে আটক করে।