সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ফসলি জমি বিক্রি করে দীর্ঘদিন পর আবার দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোজাম খা কাজিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, কাজিপুরের উত্তর পাইকপাড়া গ্রামের মৃত এশার আলীর ছেলে মো. রফিকুল মণ্ডল (৫৫), মো. হবিবর মণ্ডল (৪৮), মো. মাজেন মণ্ডল (৪৬) এবং স্থলবাড়ী গ্রামের মৃত তবজেলের ছেলে মো. তুজাম মিয়া (৬৫)।
থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাজিপুরের কৃষ্ণগোবিন্দপুর মৌজার সিএস ৩৫৯ নম্বর খতিয়ান ও আরএস ২৭৮ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ১৯৮২ সালে ৬৪৮৩ নম্বর দলিল ও ১৯৮৬ সালে ১৫৫৪ নম্বর দলিল মূলে সাব কবলা ও দানপত্র দলিল মোতাবেক গেদি বিবি ও আলতা খাতুনের নিকট হতে পাইকপাড়া গ্রামের এশার আলী ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তাঁর নিজ ও ক্রয়কৃত রেকর্ডি সম্পত্তি ১৯৯০ সালে পূর্বভরণশাহী গ্রামের মোজাম খা ক্রয় করেন। এরপর দলিলে উল্লেখিত সাবেক দাগ নম্বর ৬২ সঠিক ভাবে উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে আরএসে ৩৪১ এর পরিবর্তে ভুলবসত ৩৪৯ নম্বর দাগ লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু ৩৪৯ নম্বর দাগটি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এদিকে মাসখানেক পূর্বে সিরাজগঞ্জের আদালতে ৩৪৯ দাগের উপর সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ জমির ধান কেটে ঘরে নেয়ার পর ওই জমিতে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক হালচাষ করে পাট বীজ বোপণ করেছেন। এসময় প্রাণ নাশের হুমকি দেন রফিক মণ্ডলরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোজাম খা বলেন, ‘আমি ১৯৯০ সালে এই জমি কিনে নিয়ে প্রায় ৩৬ বছর ধরে চাষাবাদ করতেছি। কোন কথাই হয়নি। এতো দিনে তারা মাথাচাড়া দিয়েছে। জোরপূর্বক হালচাষ করে দখলের চেষ্টা করছে। আমি আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছি।’
অভিযুক্ত রফিক মণ্ডলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ওই জমি বিক্রি করেনি। মোজামরাই জোর করে চাষ করছে। আদালত আমাকে রায় দিয়েছে।’
গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত মাতবর সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি দোলা সরকার বলেন, ‘ওই জমি রফিকের বাবা ১৯৯০ সালে বিক্রি করে দিয়েছে। কোন ভাবেই ওই জমি রফিকরা পায়না। আমরা মিমাংসা করে দিয়েছিলাম। মোজামদের কাগজপত্র ঠিক আছে।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. এনায়েতুর রহমানের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আমি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা হবে।’