সিরাজগঞ্জের তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কৃষ্ণাদিঘী বাজারে একসময়ের সাধারণ মুদি দোকানি জুয়েল রানা এখন অঢেল সম্পদের মালিক। কোনো বৈধ পেশা বা আয়ের উৎস ছাড়াই গত কয়েক বছরে তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সাম্রাজ্য। অভিযোগ রয়েছে, যৌন উত্তেজক ভুয়া ওষুধ ও প্রতারণার ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে তিনি এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বর্তমানে তাকে দামী ব্রান্ডের গাড়িতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও জুয়েল রানা তাড়াশ উপজেলার কৃষ্ণাদিঘী বাজারে ছোট্ট একটি মুদি দোকানের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রার মান বদলে যেতে শুরু করে। বর্তমানে তাড়াশ পৌর শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ওয়ালটন প্লাজার দোতলায় তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিলাসবহুল সেলুন যার নাম এবিএস স্মার্ট জেমস এন্ড বিউটি পার্লার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়েল রানা ফেসবুকে ভুয়া একটি অনলাইন পেজ খুলে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছে যৌন উত্তেজক ভুয়া ওষুধ ও হারবাল বড়ি চড়া দামে বিক্রি করে আসছেন। গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ এবং তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এই অবৈধ ওষুধ গছিয়ে দেন। নামসর্বস্ব ও মানহীন এসব ওষুধ সেবন করে অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়েই তিনি এখন বিলাস বহুল জীবনযাপন করছেন।
হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠা জুয়েল রানার চলাফেরার ধরন বদলে গেছে পুরোপুরি। তাকে প্রায়ই দামী প্রাইভেট কারে চড়ে এলাকায় মহড়া দিতে দেখা যায়। এ সময় আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় কেউ তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “যে মানুষটি কয়েক বছর আগে খেয়ে-পড়ে চলার জন্য লড়াই করছিল, সে কীভাবে এত দ্রুত কোটি কোটি টাকার মালিক হলো? অথচ তার কোনো বৈধ ব্যবসা নেই। প্রশাসন কেন এসবের তদন্ত করছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে তাড়াশের সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধের নামে এই প্রতারণা বন্ধ করতে এবং জুয়েল রানার অস্বাভাবিক সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।