ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় উপলক্ষে তেহরানে শুরু হয়েছে বিশেষ আয়োজন। তার হত্যাকাণ্ডের চার মাসেরও বেশি সময় পর আয়োজিত হতে যাওয়া এই ছয় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতাকে ইরানি কর্মকর্তারা ‘শতাব্দীর সেরা বিদায় আয়োজন’ বলে অভিহিত করছেন। ঐতিহাসিক এই আয়োজনে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য এর আগে কখনোই এত বড় পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় এই ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যেখানে রবিবার বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পাবেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠানটি স্থানান্তরিত করা হবে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান কোম শহরের জামকারান মসজিদে, যেখানে জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন শিয়াদের জ্যেষ্ঠ আলেম।
ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধর্মীয়-রাজনৈতিক সম্পর্ক তুলে ধরতে বুধবার খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের নাজাফে। সেখানে যাত্রার পর কারবালায় ইসলামের খলিফা আলীর সমাধিস্থলে বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজার সমাধিস্থলে সমাহিত করা হবে। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশজুড়ে আরও ৪০ দিন শোকানুষ্ঠান এবং বছরব্যাপী বিভিন্ন স্মরণসভার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নিয়ন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগানকে সামনে রাখা হয়েছে। এই জানাজায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা তেহরানে পৌঁছেছেন।