রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মদপান, স্ত্রী নির্যাতন, যৌতুক ও পরকীয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬



জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (৩৪তম বিসিএস) আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক দাবি, পরকীয়াসহ নানা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্ত্রী সামিয়া খান এশা।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্র্যাব সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামিয়া খান এশা বলেন, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাঁর পরিবার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও উপহার দেয়।

পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ঘড়ি ও হীরার আংটিসহ মোট প্রায় ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকার উপহার দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এশার অভিযোগ, বিয়ের প্রথম দিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে তাঁর স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসে। তিনি নিয়মিত মদ্যপান, মাদক সেবন এবং বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসব ঘটনার ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি তাঁর অনুপস্থিতিতে বাসায় বিভিন্ন নারীকে এনে রাত কাটানোর অভিযোগও তোলেন এশা।

তিনি বলেন, এসবের প্রতিবাদ করলে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করলেও একপর্যায়ে স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে রামপুরা থানায় আইনগত পদক্ষেপ নেন। এরপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সামিয়া খান এশার দাবি, সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ৪০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে নেওয়া হয়। এজন্য তাঁর বাবা-মা গ্রামের জমি বিক্রি করেন এবং ব্যাংক চেকের মাধ্যমেও অর্থ দেওয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে আরিফ হোসেন একটি কাগজপত্রবিহীন প্রিমিও গাড়ি ও পূর্বাচলে জমি কেনেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলেও জানান এশা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি গভীর রাতে জয়পুরহাটের সরকারি বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন মদ্যপ অবস্থায় এসে তাঁকে মারধর করেন এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেন। এ সময় তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়েও হামলার শিকার হয়। প্রাণভয়ে সন্তানকে নিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেন তিনি। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এশা বলেন, ওই ঘটনার পর তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তিনি দাবি করেন, হামলায় তাঁর বুকের হাড় ভেঙে যায় এবং এ বিষয়ে চিকিৎসা ও এক্স-রে রিপোর্ট রয়েছে। কয়েক দিন পুলিশি নিরাপত্তায় থাকার পর চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে এশা আরও বলেন, পরে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে রাজশাহীতে ডেকে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহনাজ বেগম বলেন, ‘যতটুকু জানি দুইজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আর তাঁদের বিষয় সিনিয়ররা অবগত আছেন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর