মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
জামিনে বের হয়েই ফের ইয়াবা ব্যবসা সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তদবির, চাকরিচ্যুত ইঞ্জিনিয়ারসহ গ্রেফতার ঢাকায় মোতায়েন হচ্ছে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক: ডিবি প্রধান নতুন বিতর্কের জন্ম দিল এআই টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা লাল-সবুজের সতীর্থ নয়, ইংল্যান্ডে এবার মুখোমুখি হামজা-ফারহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার হুইলচেয়ারেই কাটছে শৈশব: সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চায় শিশু তাসফিয়া
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তদবির, চাকরিচ্যুত ইঞ্জিনিয়ারসহ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: / ৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬



প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—মো. ফারুক হোসেন (৪১), সাকিব খান (২৫), মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম এবং মো. বকুল মন্ডল (৩৫)।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, সম্প্রতি প্রবাসী ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ডিবিকে কিছু কাগজ দিয়ে তদন্তের জন্য বলে। সেগুলো তদন্তের পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার মাদারীপুরের কালকিনি থানা এলাকা থেকে ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কালকিনি থানা থেকে মাসুম মুনসীকে ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয়। পৃথক অভিযানে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বকুল মন্ডলকে।

পুলিশ জানায়,গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেডের চার বান্ডিল, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে তৈরি ৪১টি জাল সিল, প্রতারণায় ব্যবহৃত আটটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রের মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৪ সালে চাকরি হারানোর পর পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর নামে জাল সিল, স্বাক্ষর এবং অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি নথি প্রস্তুত করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নামে ব্যবহৃত ‘Priority’ সিলেরও নকল তৈরি করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছে ডিবি।

পুলিশের দাবি, পরবর্তীতে ফারুক একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক তদবির পরিচালনা করতে থাকেন। তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং চাকরি পুনর্বহালের জন্য চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করত। একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি–সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবির তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণামূলক তদবির-বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্যাড, জাল সুপারিশপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়েরও চেষ্টা করছিল তারা।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেফতার সাকিব খান বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে খুঁজেন কে কি সমস্যায় ঘুরছে। মানে তিনি লোক ধরার কাজ করে থাকেন অন্যদিকে তৌহিদুল কম্পিউটারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ড্রাফট রেডি করেন। তার কম্পিউটারে ফারুক হোসেনের নামে খোলা একটি ফোল্ডারও পাওয়া গেছে। এছাড়া মাসুমের কাছে ৪১ টি সিল পাওয়া গেছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত আছে কিনা সেসব জানতে তদন্ত চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর