রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যেতে চেয়েছিলেন ডন, বিমানবন্দরে যেভাবে গ্রেফতার মোহাম্মদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান,গ্রেফতার ২৪ সালমান শাহ হত্যা মামলা, ডন গ্রেফতার অর্থাভাবে অনিশ্চিত ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ইতির বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, পাশে দাঁড়ালেন কায়েস দ্য পিপলস নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর হুইলচেয়ার পেল সেই শিশু তাসফিয়া কাজিপুর মেঘাই উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকের  বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বালিয়াডাঙ্গীতে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও বাবার আত্মহত্যা: প্রধান আসামি সাভারে গ্রেফতার নতুন হরমুজ রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান সিরাজগঞ্জে ১৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

অর্থাভাবে অনিশ্চিত ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ইতির বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, পাশে দাঁড়ালেন কায়েস

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬



জন্মের পর থেকেই দুই চোখে আলো নেই রাশিদা সুলতানা ইতির। তবে দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানেনি কোনো প্রতিবন্ধকতা। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষার পথ যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস।

রাশিদা সুলতানা ইতি ২০০৩ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল উত্তরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল জলিল পেশায় একজন সাইকেল মিস্ত্রি। মা আলেয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের সংসারে বাবার সামান্য আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালানোই কঠিন। এর মধ্যেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন ইতি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জন্মগতভাবে দুই চোখেই দৃষ্টিহীন ইতি ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহী ছিলেন। তার শিক্ষাজীবনের শুরু রাজশাহী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে। সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ঢাকার একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়ার পর খুলনার গোয়ালখালী মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০২০ সালে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪ দশমিক ১৭ পেয়ে এসএসসি পাস করেন।

পরবর্তীতে ঢাকার বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২২ সালে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাসের পর কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান তিনি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তার সংগ্রাম শেষ হয়নি। অনেক কষ্টে ভর্তি হলেও মাসিক পড়ালেখার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় প্রয়োজনীয় ১৬ হাজার টাকাও পরিবারের কাছে ছিল না। পরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাতায়াত ভাতার টাকা জমিয়ে সেই অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ইতি।

অর্থাভাবে ইতির পড়ালেখা যখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন বিষয়টি নজরে আসে কামারখন্দ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান ও সদস্য সচিব তানভীর ইসলামের। তারা বিষয়টি আব্দুল্লাহ আল কায়েসকে জানালে তিনি দ্রুত ইতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ইতি ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে তার পরবর্তী পড়ালেখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন কায়েস। ইতোমধ্যে তিনি ইতির পাঁচ মাসের পড়ালেখার খরচও দিয়েছেন।

এ সময় কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উত্থানসহ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পড়ালেখা শেষে ইতির কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাশিদা সুলতানা ইতি বলেন, “অনেক কষ্টে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ১৬ হাজার টাকাও আমাদের কাছে ছিল না। ঢাকার একটি আরবি প্রশিক্ষণ ও একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাতায়াত ভাতা দেওয়া হতো। সেই ভাতার টাকা জমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু প্রতি মাসের পড়ালেখার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য আমাদের ছিল না। এমন সময়ে কায়েস ভাই আমার পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে পাঁচ মাসের খরচও দিয়েছেন। তার প্রতি এবং উপজেলা বিএনপির নেতাদের প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ।”

ইতি আরও বলেন, “একসময় আমার স্বপ্ন ছিল গায়ক অথবা শিক্ষক হওয়ার। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদের পড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে।”

ইতির বাবা আব্দুল জলিল বলেন, “কায়েস আমার মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব না নিলে এখন আর কোনোভাবেই তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইতির মা আলেয়া বেগম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছি। নিজের ওষুধের টাকাই ঠিকমতো জোগাড় করতে পারি না। মেয়ের পড়ালেখার খরচ বহন করার কোনো সামর্থ্য আমাদের নেই। এমন সময়ে বিএনপি নেতারা আমার মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।”

আব্দুল্লাহ আল কায়েস বলেন, “শনিবার বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসান ও সদস্য সচিব তানভীরের মাধ্যমে ইতির বিষয়টি জানতে পারি। পরে ইতির গ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। তার পরবর্তী পড়ালেখার সব দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পড়ালেখা শেষে তার স্বপ্ন পূরণেও উপজেলা বিএনপি তার পাশে থাকবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর