জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ‘ধস’বস্তায় ৩০০ লস। এ যেন লাভের আশায় কৃষকের মাথায় হাত।লাভের আশায় আলুচাষ মৌসুমে মাঠ থেকে আলু তুলে হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন জেলার পাঁচ উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের শুরুতেই আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেন তারা। তবে বেশি দাম পাবার আশায় হিমাগারে রাখা সেই আলু নিয়ে এখন বিপাকে আছেন তারা। প্রতি বস্তায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত।
কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, এ বছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত সব মিলে বস্ত প্রতি খরচ হয়েছে ১০০০- ১২০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে সেই হিমাগারের আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০-১০০০ হাজার টাকা বাজার দরে। এতে প্রতি বস্তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ২০০- ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের আলুচাষি মিজানুর জানান, এ বছর বিঘা প্রতি জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ দেওয়া সহ সব মিলে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। এতে করে বিঘা প্রতি আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ হাজার টাকা মতো। তাতে করে ভরা মৌসুমেই আলুচাষীদের লোকসান হয়েছে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা।
মৌসুমী আলু ব্যবসায়ী মিরাজ,জাকারিয়া ও আইয়ুব আলী সহ একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, এ বার ভরা মৌসুমে তারা কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন বাজারে বেশি দামের আশায়। এ মৌসুমে কৃষকের জমি থেকে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি বস্তা আলুতে গুনতে হয়েছে ১ হাজার-১২০০ টাকা পর্যন্ত। আর বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকায় ।এতে করে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের তারা। আর হিমাগারে ভাড়া বৃদ্ধির চাপতো আছেই।
পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা আফিয়া হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো: জিয়াউর রহমান জানান, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে তারা কোনো ভাড়া বাড়াননি।
বরং তিনি দাবি করেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বাড়লেও তারা ভাড়া না বাড়ায়ে নিচ্ছেন আগের ভাড়াই।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন, কৃষকের সংরক্ষণ খরচ কমাতে হিমাগার কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেরও জানান এই কর্মকর্তা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিভিন্ন ফসলের মাঠে এ বছর প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টরের ও বেশি জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে হলে সরকারিভাবে বিদেশে আলু রপ্তানির পাশাপাশি আলুর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।