সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ, উবারকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা নেদারল্যান্ডসের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিনাবিচারে আটক বন্ধের আহ্বান ‘এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেবে না’ ইরান, নিষেধাজ্ঞার আগেই তেহরানের পাল্টা বার্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু ১৭ বছর গ্যাস আমদানির নামে লুটপাট করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার খনি চাই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্ন বেঁচে আছে বাংলাদেশের আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা শুরু গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে গাজায় ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ নিহত ২
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার খনি চাই

অনলাইন ডেস্ক: / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
-সংগৃহীত ছবি

স্বর্ণ সবসময়ই আকর্ষণীয় ও মূল্যবান এক উপাদান। শুধু গয়নার জন্য নারীদের প্রিয় বলেই নয়, বিনিয়োগ হিসেবেও সবচেয়ে নিরাপদ স্বর্ণ। গত দুইবছরেই স্বর্ণের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। স্বর্ণের খোঁজে মানুষের ব্যাকুলতা তাই চিরকালীন। স্বর্ণ আছে, এমন এক খবরের ভিত্তিতে কেনিয়ার দুর্গম অঞ্চলের গ্রাম চেপোরার এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চেপোরারে আস্তানা গেড়ে স্বর্ণ খুঁজে বেড়াচ্ছে।

গ্রামের এক ছাগলপালকের দৈবক্রমে একটি সোনার টুকরো খুঁজে পাওয়ার ঘটনার পর থেকেই এই গণ উন্মাদনার শুরু। কেনিয়ার ওয়েস্ট পকোট কাউন্টির কাপেনগুরিয়া এলাকার কানিয়ারকোয়াট অঞ্চলের চেপোরোর গ্রামে হঠাৎ স্বর্ণের খোঁজে এক তুমুল হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার তার হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজছিলেন। তখন তিনি একদল নারীকে নদীর তীরে স্বর্ণের সন্ধান করতে দেখেন। মানাসে বিবিসিকে বলেন,‘আমি তাদের সাথে যোগ দিই, আর এভাবেই গ্রামবাসী বুঝতে পারে যে এই এলাকায় স্বর্ণ আছে।’ তিনি ৩ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের টুকরো পান এবং কয়েক সপ্তাহ আগে তা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে (৩৪ হাজার টাকা) বিক্রি করেন।

মানাসের ধারণা, তার এই স্বর্ণ পাওয়ার খবরই ছোট গ্রামটিতে স্বর্ণ খোঁজার জন্য মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উন্মাদনার চরম মুহূর্তে চেপোরোর গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসে পৌঁছায়, যাদের বেশিরভাগই কেনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডার বাসিন্দা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষ সাধারণত এই এলাকাগুলোতে স্বর্ণের খোঁজে তল্লাশি চালায়। কিন্তু বড় ধরনের কোনো সন্ধান খুব কমই মেলে। তবে যারা এই গ্রামে ভিড় জমিয়েছেন, তাদের কাছে এসবের কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ সামান্য পরিমাণ এই মূল্যবান ধাতুও এই অঞ্চলের দরিদ্র নারী-পুরুষদের জীবন বদলে দিতে পারে এবং তাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে। বিবিসির সাথে কথা বলা বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, এই বাড়তি আয় তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

ওয়েস্ট পকোট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারি বিবিসিকে বলেন,‘তরুণেরা প্রথমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণের মতো দেখতে কিছু একটা পায়। এর পরের দিন নারীরাও একই এলাকায় আরেকটি বড় সন্ধান পায়।’ তিনি জানান, এই দুটি ঘটনাই গ্রামে সাম্প্রতিক মানুষের ঢল নামার পেছনে মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।

এই কর্মকর্তা আরও ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত মানুষ এই অঞ্চলে খুব সামান্য পরিমাণের স্বর্ণ খুঁজে পায়, কিন্তু এবার বড় পরিমাণের সন্ধান মেলায় তা সবার নজর কেড়েছে। তবে মূল্যবান ধাতুর সন্ধান মিললেও আসলে ঠিক কত বড় স্বর্ণের মজুদ সেখানে রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কিয়ারি বিবিসিকে বলেন,‘আমি নিশ্চিত করতে পারি যে ক্ষুদ্র সোনা ব্যবসায়ীরা আমাদের জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন মানুষের কাছ থেকে সোনা পাচ্ছেন।’ অবশ্য, খুঁজে পাওয়া জিনিসগুলো আসলেই স্বর্ণ ছিল কি না, তা নিয়ে পুরোপুরি স্পষ্টতা নেই।

যখন কিছু মানুষ দাবি করছে যে তারা স্বর্ণ পেয়েছে এবং অন্যরা অপেক্ষায় রয়েছে, তখন এই গণ-উপস্থিতি সেখানে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, গ্রামের এই নতুন হটস্পটে খাবার, পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রির জন্য ২০০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে, এত মানুষের হঠাৎ আগমনে এই ছোট গ্রামের অবকাঠামোতে বড় প্রভাব পড়েছে এবং দিন দিন পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর