অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে পড়েনি বাংলাদেশ। বরং ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে এখনো ফাইনালের দৌড়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে লর্ডসে ২০২৭ সালের ফাইনাল খেলতে হলে বাকি ছয় টেস্টে কঠিন সমীকরণ মিলাতে হবে বাংলাদেশকে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫ থেকে ২০২৭ চক্রে ৯টি দল মোট ২৭টি সিরিজে ৭১টি টেস্ট খেলবে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে।
এই প্রতিযোগিতায় জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট, টাই হলে ৬ পয়েন্ট করে এবং ড্র হলে ৪ পয়েন্ট দেওয়া হয়। তবে দলগুলো সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে না বলে মোট পয়েন্টের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ধারণ করা হয় না। মোট সম্ভাব্য পয়েন্টের কত শতাংশ একটি দল অর্জন করেছে, সেই পয়েন্ট শতাংশ বা পিসিটির ভিত্তিতে অবস্থান ঠিক হয়।
বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ
৬টি টেস্ট খেলা বাংলাদেশ ৩টি জয়, ২টি হার ও ১টি ড্রয়ে পেয়েছে ৪০ পয়েন্ট। পিসিটি ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের বাকি ছয়টি টেস্টের মধ্যে দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে।
৬০ শতাংশ পিসিটি স্পর্শ করতে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪৭ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট জিততে পারলে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে।
তবে শুধু ৬০ শতাংশে পৌঁছানোই ফাইনালের নিশ্চয়তা দেবে না। ঘরের মাঠের চার জয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে আরও একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি দাঁড়াবে ৬৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই অবস্থান ফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান
১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আছে শীর্ষে। তাদের পিসিটি ৮০ শতাংশ।
বাকি ১২ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের লড়াইয়ে থাকতে তাদের আর ৬৩ পয়েন্ট দরকার। ৫ জয় ও ১ ড্র পেলেই ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হিসাব
৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে দক্ষিণ আফ্রিকার পিসিটি ৭৫ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের আটটিই খেলবে ঘরের মাঠে।
৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে তাদের দরকার আরও ৬৫ পয়েন্ট। ৫ জয় ও ২ ড্র পেলেই সেই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। আর ৭ জয় ও ৩ হার হলে পিসিটি দাঁড়াবে ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশে।
নিউজিল্যান্ডও লড়াইয়ে
৬ ম্যাচে ৪ জয়, ১ হার ও ১ ড্রয়ে নিউজিল্যান্ডের পিসিটি ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলতে হবে তাদের।
ফাইনালের লড়াইয়ে থাকতে বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতেই হবে কিউইদের। ৬ জয় ও ৩ হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর ৭ জয় ও ৩ হার হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশে।
ভারতের সামনে কঠিন পথ
১০ ম্যাচে ৫ জয়, ৪ হার ও ১ ড্রয়ে ভারতের পিসিটি ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি আটটি টেস্টের মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ খেলবে তারা।
বাকি আট টেস্টে অন্তত ৬৬ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশের ওপরে উঠতে পারবে ভারত। ৬ জয় ও ২ হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর ৭ জয় ও ১ হার হলে পিসিটি দাঁড়াবে ৬৮ দশমিক ৫২ শতাংশে।
শ্রীলঙ্কার কঠিন সমীকরণ
৫ ম্যাচে মাত্র ১ জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কার পিসিটি ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি সাত টেস্টে তাদের খেলতে হবে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
৬০ শতাংশে পৌঁছাতে শ্রীলঙ্কার দরকার ৬৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ ৫ জয় ও ২ ড্র কিংবা ৬ জয় প্রয়োজন। সাতটি ম্যাচের সব কটিতে জয় পেলেও তাদের পিসিটি সর্বোচ্চ ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ হবে।
ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ক্ষীণ
১৪ ম্যাচে ৫ জয়, ৮ হার ও ১ ড্রয়ে ইংল্যান্ডের পিসিটি ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের ১৪ পয়েন্টও কাটা গেছে।
বাকি সাতটি টেস্টের সব কটিতে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৫৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১২ ম্যাচে ২ জয়, ৮ হার ও ২ ড্রয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিসিটি ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বাকি আছে মাত্র দুটি টেস্ট, দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে।
দুই ম্যাচেই জয় পেলেও তাদের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশ। ফলে ফাইনালের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে গেছে ক্যারিবীয় দলটি।
পাকিস্তানেরও কঠিন পথ
৭ ম্যাচে ২ জয় ও ৫ হারে পাকিস্তানের পয়েন্ট ১৬। স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের ৮ পয়েন্ট জরিমানাও হয়েছে। পিসিটি ২২ দশমিক ২২ শতাংশ।
বাকি ছয়টি টেস্টে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। সবগুলো ম্যাচ জিতলে তাদের পিসিটি সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশে উঠবে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। এই চার ম্যাচে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিতে পারলে ফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বড় সুযোগ থাকবে শান্তদের। তবে একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ম্যাচগুলোর ফলও বাংলাদেশের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।