সিরাজগঞ্জে আলোচিত নাসির-টিক্কা হত্যা নিয়ে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল এস’-এর ‘সাদাকালো’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত প্রতিবেদনকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত নাসির-টিক্কা পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ পৌরসভার হোসেনপুর এলাকায় নাসির-টিক্কা পরিবারের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নাসিরের বড় ভাই মো. মাসুম এবং টিক্কার বড় ভাই ও নাসিরের শ্যালক মো. আয়নুল হক সাহেল। এ সময় নাসিরের চাচাতো ভাই আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল এস’-এর ‘সাদাকালো’ অনুষ্ঠানে নাসির-টিক্কা হত্যা নিয়ে পরিবারের বক্তব্য হিসেবে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। তাদের দাবি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী আব্দুস সাত্তারের মানহানি করার উদ্দেশ্যে একটি কাল্পনিক গল্প তৈরি করে প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, নাসির-টিক্কা পরিবারের পক্ষ থেকে চ্যানেল এসকে কেউ কোনো বক্তব্য দেননি। এমনকি পরিবারের কারও সঙ্গে চ্যানেল এস-এর প্রতিবেদক বা প্রতিনিধির সাক্ষাৎ কিংবা কথাও হয়নি। অথচ অনুষ্ঠানে এক নারীকে নাসিরের ভাতিজি পরিচয় দিয়ে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। ওই নারীর নাম, পরিচয় বা চেহারা প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, ওই সাক্ষাৎকারটি কাল্পনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাই বক্তব্য দেওয়া নারীর পরিচয়, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের জন্য চ্যানেল এস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব তথ্য প্রকাশ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চ্যানেল এস-এর ওই অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের একটি হত্যা মামলার সংবাদ পরিবেশনের সময় নাসির-টিক্কার রক্তাক্ত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, অন্য ঘটনার সঙ্গে তাদের স্বজনদের ছবি ব্যবহার করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও আইনগতভাবে দণ্ডনীয়।
লিখিত বক্তব্যে নাসির-টিক্কা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর যমুনা নদীর চরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার চর বানতাই এলাকায় চর ও বালু দখলকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নাসির উদ্দিন ও তার শ্যালক টিক্কা মিয়াকে হত্যা করা হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তৎকালীন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহসভাপতি আব্দুস সাত্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাকে ও বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
তারা আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে প্রকৃত হত্যাকারীরা আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন এবং বর্তমানে সিরাজগঞ্জ কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাজী আব্দুস সাত্তারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রকৃত অপরাধীরা সাজা ভোগ করার পরও নাসির-টিক্কা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তারা এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে চ্যানেল এস-এর প্রচারিত প্রতিবেদন ও ভিডিওচিত্র প্রত্যাহার এবং নাসিরের ভাতিজি পরিচয়ে বক্তব্য দেওয়া নারীর পরিচয় প্রকাশের দাবি জানানো হয়। অন্য ঘটনায় নাসির-টিক্কার রক্তাক্ত ছবি ব্যবহারের বিষয়টিও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তারা।