শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

কোরআনের বর্ণনায় অন্তরের সুস্থতা ও অসুস্থতা

অনলাইন ডেস্ক: / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্বলব বা অন্তর মানবদেহের সর্দার। অন্তরই মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।

তাঁর ভালো-মন্দের প্রভাব পড়ে অন্য সব অঙ্গের ওপর। কারো অন্তর সুস্থ ও সজীব হলে সে সহজেই সত্যের আলো গ্রহণ করতে পারে। আর তা অসুস্থ হলে আসমানি হেদায়েত ও ঐশী সুধাও ভালো লাগে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এতে উপদেশ আছে তার জন্য, যার আছে অন্তঃকরণ অথবা যে শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে।’ (সুরা : ক্বফ, আয়াত : ৩৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরাটি হলো ক্বলব (অন্তর)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

অন্তরের সুস্থতা কেন প্রয়োজন

পার্থিব জীবনে স্বস্তি ও পরকালীন জীবনে মুক্তি লাভের জন্য অন্তরের সুস্থতা অপরিহার্য।

বিশেষত সুস্থ ও সজীব অন্তর ছাড়া পরকালে মুক্তি আশা করা যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।’ (সুরা : আশ-শুআরা, আয়াত : ৮৮-৮৯)

সুস্থ অন্তরের নিদর্শন

পবিত্র কোরআনে সুস্থ ও সজীব অন্তরের কিছু নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। তা হলো—

১. জিকিরে প্রশান্তি লাভ : সুস্থ ও সজীব অন্তর আল্লাহর জিকিরে প্রশান্তি লাভ করে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাআদ, আয়াত : ২৮)

২. তিলাওয়াতে শিহরণ জাগে : মুমিনরা কোরআন তিলাওয়াত করলে শিহরিত হয়। এটা তাদের অন্তরের সুস্থতার প্রমাণ। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন উত্তম বাণী সংবলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্য এবং যা পুনঃ পুনঃ তিলাওয়াত করা হয়। এতে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের শরীর রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাদের দেহমন বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ২৩)

৩. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা : মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা অন্তরের সুস্থতার একটি নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বোলো, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ২৩)

৪. দ্বিনের আহ্বানে সাড়া দেওয়া : সুস্থ ও সজীব অন্তর ছাড়া বান্দার পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আহ্বানে সাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। আর তাঁদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার অর্থ হলো দ্বিধাহীন চিত্তে তাঁদের আনুগত্য করা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! রাসুল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহবান করে, যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রাসুলের আহ্বানে সাড়া দেবে।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৪)

৫. নিষ্কলুষ ঈমান : নিষ্কলুষ ঈমান, দ্বিধা ও সংশয়হীন ঈমান অন্তরের সুস্থতার প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১১)

৬. বিপদে প্রশান্ত হৃদয় : যে অন্তর ঘোর বিপদ-আপদেও প্রশান্ত থাকে, আল্লাহর ওপর তার অবিচল আস্থা তাকে অস্থির হতে দেয় না, সেই অন্তর সুস্থ ও সজীব। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান দৃঢ় করে নেয়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীগুলো আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ৪)

অসুস্থ অন্তরের নিদর্শন

পবিত্র কোরআনে অন্তরের সুস্থতার মতো কিছু অসুস্থতারও নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন—

১. সত্য শ্রবণে অনাগ্রহী : যে অন্তর সত্য শ্রবণে অনাগ্রহী তা অসুস্থ। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের অন্তর মোহর করে দেব, ফলে তারা শুনবে না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১০০)

২. সত্য দেখতে অনাগ্রহী : যে অন্তর সত্য দেখতে অনাগ্রহী, যা সত্য দেখেও না দেখার ভান করে তা রোগাগ্রস্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি, তা হলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৪৬)

৩. যা দয়া ও মায়াহীন : দয়া-মায়াহীন কঠোর হৃদয় সুস্থ হৃদয় নয়, এটা অসুস্থতার লক্ষণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘এরপরও তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল, তা পাথর কিংবা তার চেয়েও কঠিন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৪)

৪. সংকীর্ণ হৃদয় : হৃদয়ের সংকীর্ণতাও হৃদয়ের এক প্রকার রোগ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন এবং কাউকে বিপথগামী করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন। তার কাছে ইসলাম অনুসরণ আকাশে আরোহণের মতোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। যারা বিশ্বাস করে না আল্লাহ তাদেরকে এভাবে লাঞ্ছিত করেন।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১২৫)

৫. সত্য উপলব্ধি করতে অনাগ্রহী : যাদের অন্তর অসুস্থ তারা সত্য উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় আছে; কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে তা দ্বারা দেখে না এবং তাদের কান আছে তা দ্বারা শ্রবণ করে না। তারা পশুর মতো, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত, তারাই গাফেল।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)

মুমিনের উচিত অন্তরের সুস্থতার গুণগুলো ধারণ করা এবং অসুস্থ অন্তরের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিহার করা। আর বিশেষভাবে অন্তরের সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। যেমনটি আল্লাহ শিখিয়েছেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লঙ্ঘনপ্রবণ কোরো না এবং তোমার নিকট থেকে আমাদের করুণ দাও, নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর