জার্মান বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে এক ম্যাচেই যেন দুটি বড় ধাক্কা এল। শনিবার রাতে লিগে সদ্য প্রমোশন পাওয়া শালকের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। এর মধ্য দিয়ে ৫৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ পর প্রথমবার গোলহীন থাকল বায়ার্ন। একই সঙ্গে ৬৭ ম্যাচডে পর বুন্দেসলিগার শীর্ষস্থানও হারিয়েছে তারা।
শালকের মাঠে পুরো ম্যাচে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও জালের দেখা পায়নি বায়ার্ন। স্বাগতিকদের গোলরক্ষক লোরিস কারিয়ুস ছিলেন দুর্দান্ত। তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ বায়ার্নের আক্রমণকে আটকে দেয়।
বায়ার্নের হয়ে সবচেয়ে বড় দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন লুইস দিয়াজ। প্রথমার্ধে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়ার্ধে কারিয়ুসকে টপকে চিপ করে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন দিয়াজ। কিন্তু গোললাইন অতিক্রমের আগেই শালকের এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করে দেন।
শালকের বিপক্ষে একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ কোম্পানি। শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন দলের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ও মাইকেল অলিসে। দ্বিতীয়ার্ধে দুজনের সঙ্গে মাঠে নামেন জামাল মুসিয়ালাও।
চলতি মৌসুমে এটিই মুসিয়ালার প্রথম বুন্দেসলিগা ম্যাচ। প্রাক-মৌসুমের দুটি ম্যাচে খেলার সময় খিঁচুনির সমস্যায় পড়ার পর এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলে ছিলেন তিনি। তবে তাঁর উপস্থিতিও বায়ার্নকে শালকের জমাট রক্ষণ ভাঙতে সাহায্য করতে পারেনি।
এই ড্রয়ের ফলে বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের টানা ৪৭ ম্যাচে গোল করার ধারাও শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লিগে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল দলটি। সেদিন বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের গোল করার ধারাটি ছিল আরও দীর্ঘ—টানা ৫৯ ম্যাচ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ক্লাব বিশ্বকাপে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই গোল পেয়েছিল জার্মান জায়ান্টরা। শালকের বিপক্ষে এসে সেই ধারারও ইতি হলো।
ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ করেন। তাঁর মতে, জয় পাওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিল দল। তবে শালকের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পাওয়া যায়নি।
বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও কারিয়ুসের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, ম্যাচসেরার পুরস্কারের জন্য শালকের গোলরক্ষকই সবচেয়ে যোগ্য ছিলেন। বড় তিনটি সুযোগ আটকে দিয়ে কারিয়ুসই বায়ার্নকে জয় থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে মনে করেন নয়্যার।
তবে বায়ার্নের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পয়েন্ট তালিকায়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম বুন্দেসলিগার শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে গেল দলটি। টানা ৬৭ ম্যাচডে শীর্ষে থাকার পর এবার সেই ধারারও অবসান হলো।
এই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্রাইবুর্গ। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্নের অবস্থান চতুর্থ।
সামনে অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে বায়ার্ন। বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বডো/গ্লিম্টের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর বুন্দেসলিগায় নতুন উঠে আসা এলভার্সবার্গের মাঠে খেলবে কোম্পানির দল।