চারপাশে অভাব। জরাজীর্ণ ছোট্ট ঘর। বৃষ্টি হলে টিনের চাল গলে পানি পড়ে। সংসারে নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেই ঘরেই বই হাতে বড় স্বপ্ন বুনছে সুপর্ণা বিশ্বাস। তার চোখে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখন অর্থের অভাব।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পীরেরপাড় গ্রামের দিনমজুর সুশান্ত বিশ্বাসের মেয়ে সুপর্ণা। অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেও পড়াশোনায় পিছিয়ে যায়নি সুপর্ণা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে এ প্লাস পেয়েছে। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষাও দিয়েছে সে। এখন তার সামনে একটাই লক্ষ্য মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য দরকার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, কোচিং, বইপত্র ও অন্যান্য খরচ। যে পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে এসব ব্যয় যেন পাহাড়সম।
নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত সুপর্ণা বলেন, আমার খুব ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার। গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের চিকিৎসা করতে চাই। কিন্তু আমাদের পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ। কোচিং ও বই কেনার টাকা নেই। আমি শুধু সুযোগ চাই, যাতে আমার স্বপ্নটা পূরণ করতে পারি।
সুপর্ণার কণ্ঠে যেমন স্বপ্ন, তেমনি রয়েছে অনিশ্চয়তার ভয়। মেধা দিয়ে এসএসসিতে প্লাস অর্জন করলেও অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষার পথ আটকে যেতে পারে এই শঙ্কাই এখন তাকে তাড়া করছে।
মেয়ের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন বাবা সুশান্ত বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি দিনমজুর মানুষ। কাজ পেলে সংসার চলে, না পেলে অনেক কষ্ট করতে হয়। তারপরও অনেক কষ্ট করে সন্তানদের পড়াচ্ছি। মেয়েটা ভালো পড়াশোনা করে, ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু ওকে মেডিকেলের জন্য কোচিং করানোর সামর্থ্য আমার নেই।
সুপর্ণার মায়ের চোখেও মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। তিনি বলেন, ওর স্বপ্নটা যদি টাকার অভাবে থেমে যায়, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?
স্থানীয় বাসিন্দারাও সুপর্ণার মেধা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও যে মেয়ে এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে, তাকে সুযোগ দেওয়া হলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে। তাদের মতে, অর্থের অভাবে যেন সুপর্ণার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ না হয়। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।