ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ৭ হাজার ৯৩৪ জন নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। এছাড়াও ১৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানের সময় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উল্লিখিত তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩ হাজার ৯০৫টি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জন বসবাসের নিয়ম, ৩ হাজার ৮৬৫ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত।
এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৮৮১ জনকে এবং অননুমোদিত সীমান্ত পথ দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা বসবাসের নিয়ম, শ্রম আইন বা সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করেছে তাদের পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া, কাজে নিয়োগ করা বা লুকিয়ে রাখার সন্দেহে আরও ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসী অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনের কাছে পাঠিয়েছে এবং আরও ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে মন্ত্রণালয় তাদের ঘোষণায় ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করে, দেশের ভেতরে কাউকে পরিবহন করে, আশ্রয় দেয় বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং তাদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয়ও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে।
মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে গণ্য হয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং এগুলো সম্মান ও বিশ্বাসের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে বাসিন্দাদের কোনো সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল প্রদেশে সংশ্লিষ্ট জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: সৌদি গেজেট, গাল্ফ নিউজ।