রাজশাহীর চারঘাটে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের সোনালী শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো সবুজ আর সোনালী রঙের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলনের আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবং অনুকুল আবহাওয়ার কারনে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চারঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে এখন বাতাসে দোল খাচ্ছে ধানের শীষ। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই শুরু হবে কা•িক্ষত ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব।
উপজেলার নিমপাড়া ও ইউসুফপুর এলাকার কয়েকজন আমন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম থাকলেও পরবর্তীতে আবহাওয়া ধান চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। তা ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা ও উপশী জাতের ধান রোপণ করায় এবার গাছের বৃদ্ধি ও শীষের গঠন বেশ ভালো হয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার বিঘা প্রতি কাক্ষিত ফলন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
কৃষক আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বছর ধানের গাছ ও শীষ দেখে মনে হচ্ছে ফলন খুব ভালো হবে। পোকা-মাকড়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় কীটনাশক খরচও কিছুটা বেঁচেছে। বাজারে যদি ধানের ন্যায্য দাম পাই, তবে এবার লাভবান হতে পারব।
নিমপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হিরু বলেন, রোপা আমন চাষে বাড়তি সেচ না লাগাই ফসল মাঠ জুড়ে বইছে আনন্দ। ধানের শীষে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। আবহাওয়াসহ সবার্কিক ভাবে রোপা আমন চাষে অনুকুল পরিবেশ থাকায় এবার বাম্পার ফলন আশা করছি। ধানের ন্যায্য মুল্য পেলে সামনের মৌসুমে আরো কৃষক রোপা আমন চাষেআগ্রহী হবেন।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান জানান, চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সুষম সারের ব্যবহার, পরিমিত সেচ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এবার ফলন বেশ ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধান কাটা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা তাদের কাক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
নবান্নের আগমনকে সামনে রেখে চারঘাটের কৃষাণ-কৃষাণীরা এখন ধান কাটার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সোনালী ধানের ফলনে পুরো উপজেলায় বইছে আনন্দের আমেজ।