বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য জানানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশের শুরু থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের আগের ও পরের সব ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সঠিক তথ্য জানুক। অতীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউট মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস জ্ঞান প্রতিযোগিতা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন। তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
আমিনুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্ম হয়নি। তাঁদের অনেকের মতো তিনিও মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেননি। তাই পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকার ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। বর্তমান সরকারও সংবাদমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে সমালোচনার পাশাপাশি মিথ্যাচার ও অপপ্রচারও হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মিথ্যা কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, আর সত্য কখনো গোপন থাকে না। সত্য একদিন না একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই।’
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাবিবা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইসরাফিল খসরু বক্তব্য দেন।
পল্লবী ও রূপনগরের ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রথম থেকে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি—দুটি বিভাগে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।