গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং যৌতুক দাবির অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীবাদী হয়ে থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুরনাহার আক্তার প্রায় সাত বছর আগে উপজেলার চান্দরা হাজীবাড়ী এলাকার রুবেল হাসান জনির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রুবেল হাসান জনি, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পিতার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা এবং নতুন ঘর সাজানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এসব দাবিতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালাতো। এর আগেও নির্যাতন সইতে না পেরে ৯৯৯ ফোনে উদ্ধার হয়। এ নিয়ে গ্রাম্য ভাবে একাধিক বার সালিশ করেছেন দুই পরিবার সদস্যরা। এতেও ক্ষান্ত হননি তার স্বামী।
সম্প্রীতি গত (২ ফেব্রুয়ারি ) স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে তাকে গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। পরে কৌশলে ঘরের ভিতরে নিয়ে আটকে রেখে পুনরায় মারপিট করে । এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যায় বাড়ির লোকজনকে ফাঁকি দিয়ে কৌশলে ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়িতে চলে যায়। পরে তার বাবার বাড়ি পৌঁছাল তার আত্মীয়-স্বজনরা স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন। যৌতুক না দিলে আরও ভয়াবহ পরিণতির করবে বলে হুমকি দেয় তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান পুরাহা না পেয়ে। এ বিষয়ে নুরনাহার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই নারী জানায় পরকিয়া ধরে ফেলায় তাকে বিভিন্ন সময় তার ওপর নির্যাতন চালাত।
এবিষয়ে স্বামী রুবেল হাসান জনি জানান, আমার বাবা, মাকে মারপিট করেছে তাই আমার মাথা ঠিক ছিল না এই কারণে চড় থাপ্পড় দিয়েছি। যৌতুকের বিষয় তাকে আমি কিছুই বলিনি।
কালিয়াকৈর থানা উপ-পরিদর্শক (এস আই) মুক্তার হোসেন জানান, এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।