পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। হামলার ঘটনায় নৌযানে থাকা আরও একজন ব্যক্তি জীবিত থাকায় তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী ইউএস সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, সোমবার একটি নৌযানের ওপর ‘লিথাল কাইনেটিক স্ট্রাইক’ পরিচালনা করা হয়। তাদের দাবি, নৌকাটি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি তারা।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুইজন মাদক-সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং একজন বেঁচে গেছে হামলা থেকে। সংঘর্ষের পরপরই ইউএস সাউথকম জীবিত ব্যক্তির জন্য সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডকে অবহিত করে।
হামলার ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সাউথকম। এতে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর নিশানায় থাকা একটি ছোট মোটরচালিত নৌযানে আঘাত হানার পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর নৌকার কিছু অংশ অক্ষত থাকতে দেখা গেলেও সেটির গতি ধীর হয়ে যায়।
গত সপ্তাহে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি হামলায় দুইজন নিহতের দায় স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে রাতের আঁধারে রক্তক্ষয়ী অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর থেকে এখন পর্যন্ত নৌযানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে পরিচালিত হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনটিতে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য ও পর্যবেক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে এখন পর্যন্ত ৩৯টি নৌযানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩৭টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সর্বশেষ ঘটনায় হতাহতসহ মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৩০ জন।