নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনি আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে, তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে? নির্বাচনি আচরণবিধির এই লঙ্ঘন একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই বিষয়ে খোদ ওই দলীয় প্রধানের আসন ঢাকা-১৫ তে তার জন্য দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সেই ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে, দুর্নীতির মাধ্যমে, টাকা ছড়িয়ে, দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে?
ভোট সুষ্ঠু ও গঠনমূলক হলে বিএনপি যে কোনো ফল মেনে নেবে বলে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় যে গণজোয়ার বয়েছে, তাতে বিএনপির জয় অনিবার্য। উৎসবমুখর পরিবেশ রয়েছে। আশা করি, সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা মুখপাত্র বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের বিষয়ে বিএনপির নাম কখনো আসেনি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে বিএনপিই জয়লাভ করবে। সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে, যে ফলাফলই হবে, বিএনপি তা মেনে নেবে।