ভোট কেনাবেচার অভিযোগ তুলে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের নির্বাচনী অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবু পাড়া এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। এতে ৯ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাঙ্গল প্রতীকের অফিস থেকে ভোটারদের মাঝে টাকা বিলি করা হচ্ছে— এমন একটি গুজব ছড়িয়ে গভীর রাতে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা ‘মব’ সৃষ্টি করে অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান বুলেট বাবু (৪৫) ও কর্মী শাকিল আহমেদসহ (৩৮) ৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, আমার নিশ্চিত বিজয় দেখে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ছক কষেছে। তারা অবৈধ অর্থ রাখার মিথ্যা অজুহাতে গভীর রাতে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং আমার অফিস লুট করেছে। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়ে সেখানে অবৈধ কিছুর অস্তিত্ব পাননি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
হামলার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সৈয়দপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী ইমাম জানান, টাকা বিলি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।