রাজশাহী মহানগরীর ৪১টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে নবগঠিত যুবদল কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
রবিবার দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তাদের অভিযোগ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছর ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেকেই বাড়িতে অবস্থান করতে পারেননি। কিন্তু সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন করে ৪১টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বক্তাদের দাবি, নবগঠিত কমিটিগুলো পকেট কমিটি। এসব কমিটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমনকি ৫ আগস্টের আগে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে থাকা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় ২০০ জন ক্যাডারকে অর্থের বিনিময়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধন থেকে ৪১টি ওয়ার্ডের নতুন কমিটি অনতিবিলম্বে বাতিল করে পুনরায় কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল রাজশাহী মহানগরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে দলীয়ভাবে শোকজ হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল কাদের বকুল (সাবেক আহ্বায়ক, ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল), মো. নাজির হাসান (যুগ্ম আহ্বায়ক, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল), আনোয়ারুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল), শফিউল আলম টিয়া (সাবেক আহ্বায়ক, মতিহার থানা যুবদল), তানভীর আলম (যুগ্ম আহ্বায়ক, রাজশাহী মহানগর যুবদল)সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।#