বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্মানজনক আসর কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরে বিচারক প্যানেলের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রখ্যাত দক্ষিণ কোরীয় নির্মাতা পার্ক চ্যান-উক। বৃহস্পতিবার উৎসব কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়।
‘ওল্ডবয়’, ‘দ্য হ্যান্ডমেইডেন’ এবং ‘ডিসিশন টু লিভ’-এর মতো কালজয়ী সিনেমার এই স্রষ্টাই প্রথম কোরীয় পরিচালক হিসেবে কানের আন্তর্জাতিক জুরির নেতৃত্ব দেবেন। আগামী ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই উৎসবে তার নেতৃত্বাধীন বিচারক প্যানেলই নির্ধারণ করবে এ বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বা ‘পাম দর’-এর নাম।
পার্ক চ্যান-উকের এই নিয়োগকে দক্ষিণ কোরীয় সিনেমার বৈশ্বিক জয়যাত্রার একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
কান উৎসবের সভাপতি আইরিস নবলোচ এবং পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পার্কের সৃজনশীলতা, দৃশ্যগত পারদর্শিতা এবং মানবজীবনের জটিল অনুভূতিগুলোকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা সমসাময়িক সিনেমাকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তার প্রতিভা উদযাপনের মাধ্যমে কান উৎসব আসলে একটি দেশের সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র সংস্কৃতিকেই সম্মানিত করছে।
কান উৎসবের সঙ্গে পার্ক চ্যান-উকের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বেশ গভীর। ২০০৪ সালে ‘ওল্ডবয়’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক পরিচিতি পান এবং সে বছর কানের গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ জিতে নেন। এরপর ২০০৯ সালে তার ভ্যাম্পায়ার ড্রামা ‘থার্স্ট’ জুরি প্রাইজ লাভ করে এবং ২০২২ সালে থ্রিলার সিনেমা ‘ডিসিশন টু লিভ’-এর জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পান।
পার্কের কাজের ধরনকে অনেক সময় কুয়েন্টিন টারান্তিনো বা আলফ্রেড হিচককের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা তার নান্দনিক বোধ এবং নৈতিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়।
কানের প্রধান বিচারক হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পার্ক চ্যান-উক। তিনি বলেন, সিনেমার আলোর খোঁজে অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে বন্দি হওয়া এবং সহ-বিচারকদের সঙ্গে চলচ্চিত্র নিয়ে তর্কে মেতে ওঠার এই সুযোগের জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বর্তমানের বিভক্তি ও বিদ্বেষের যুগে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখা এবং হৃদস্পন্দনের এই মিলনকে তিনি এক সর্বজনীন সংহতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই উৎসবের পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার