বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এবার আমিরাত-বাহরাইনের উপকূল দখলের হুমকি ইরানের : রিপোর্ট ঈদ বকশিস দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা, বিএনপি নেতা বহিষ্কার ইসরায়েলে ৪০ মিনিটে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন: প্রধানমন্ত্রী মুন্সিগঞ্জে প্রায় ৬ কোটি টাকার অবৈধ চিংড়ি রেণু জব্দ বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ মৃত্যু: দ্বায়িত্ব অবহেলায় দূর্ঘটনা, ঘটনাস্থলে ছিলেন না দুই গেইটম্যানের কেউই রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন স্বাধীনতা দিবসের দিনে মাঠে নামছেন আশরাফুল-নাফিসরা কাজিপুরে  গণহত্যা   দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত ২৮ বছর বয়সেই আরসিবির চেয়ারম্যান, কে এই আর্যমান বিরলা?
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাব মানলে কী পাবে ইরান?

অনলাইন ডেস্ক: / ৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে) ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শান্তি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো- ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব কমিয়ে আনা।

শান্তি প্রস্তাবে ইরানের প্রতি প্রধান শর্তসমূহ

১. ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

২. ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (প্রক্সি) সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এসব গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া থেকে ইরানকে বিরত থাকতে হবে।

৪. বর্তমানে ইরানের যেসব পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, তা পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।

৫. ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।

৬. ইরানের ভূখণ্ডে কোনও পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না। বর্তমানে থাকা সব সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএ’র কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৭. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

৮. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে; যা কি না শুধু আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইরান যদি এসব শর্ত মেনে নেয় তবে বিনিময়ে তারা নিচের সুবিধাগুলো পাবে

১. বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দেবে।

২. ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

৩. ভবিষ্যতে আর কখনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না- এমন নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসব্যাপী একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকার- কোনও পক্ষই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

তবে, মার্কিন ১৫ দফা প্রস্তাবের আগে ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছিল। হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম শর্ত হিসেবে ইরান চেয়েছে ভবিষ্যতে আর যেন যুদ্ধ শুরু না হয়-এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতেই থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ইরান। তাদের মতে, এসব ঘাঁটি থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চতুর্থত, যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়েছে, তাই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পঞ্চম শর্ত হিসেবে ইরান অভিযোগ করেছে, কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া বা তাদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর