সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্যে বরাদ্দকৃত পাট বীজ খোলা বাজারে বিক্রির সময় এক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও দোকানীকে লোকজন আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালতে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার নিশ্চিতপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও তেকানি ইউনিয়নের চরবুরুঙ্গী গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আব্দুস সালাম ও ওই পাট বীজের ক্রেতা চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা গ্রামের গফুর আলীর ছেলে ব্যবসায়ী মো: গোলাই।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ২৩০ প্যাকেট সরকারী তোষা পাট বীজ রিক্সাভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম ও বীজের ক্রেতা মো: গোলাইকে সন্দেহবশত আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে তাদের নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে সোর্পদ করা হয়।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালামকে ৫০ হাজার ও পাট বীজের ক্রেতা মো: গোলাইকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। তাৎক্ষনিক অর্থ প্রদান করায় মুচলেকা রেখে এবং ভবিষ্যতের জন্য সর্তক করে তাদের অবমুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে এখনো পাট অধিদপ্তরের সরকারি পাট বীজ উপজেলায় আসেনি। যতদূর জানতে পেরেছি উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বিগত বছরের এসব বীজ বিক্রি করেছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম মনজুরে মাওলা বলেন, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ১০ম গ্রেডের হওয়ায় বিধি অনুযায়ী পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি পিএসসিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।