বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সরকারি সম্পত্তি ও ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের মাথা গোঁজার ঠাঁই জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনজু সরকারের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে সরকারি পুকুর ও অসহায় পরিবারগুলোর বসতবাড়ি প্রভাবশালীদের নামে লিখে দেওয়ার অভিযোগে ওই কর্মকতার প্রত্যাহর ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বুধবার দুপুর দেড়টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের সামনে এ মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে তার বিচার ও প্রত্যাহার এবং নিজেদের বসবাসের অধিকার রক্ষার দাবিতে বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ভূমিহীন ও এলাকাসীরা ।
মানববন্ধনে আসা ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় সর্বস্ব হারানো প্রায় ৪০-৪৫টি ভূমিহীন পরিবারকে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কদিমপুকুর মৌজায় ‘হাটদিঘী পুকুর’ পাড়ে পুনর্বাসন করা হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই পুকুরে মাছ চাষ এবং পাড়ে ঘরবাড়ি তুলে মানবেতর সংগ্রাম করে টিকে আছে পরিবারগুলো। কিন্তু হঠাৎ করেই এই সাজানো সংসারে কালো মেঘ হয়ে দেখা দেয় স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র ও দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা রঞ্জু সরকার।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ রনজু সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি সরকারি রেকর্ডপত্র পাশ কাটিয়ে ভুয়া খতিয়ানের মাধ্যমে ওই সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালী সুভাষচন্দ্র মাহাতো ও তার সহযোগীদের নামে অবৈধভাবে নামজারি (মিউটেশন) করে দেন। কাগজপত্র হাতে পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রভাবশালী চক্রটি। দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, ঘরবাড়ি দখল করতে ওই চক্রটি ভূমিহীনদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে এবং এমনকি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। বর্তমানে কয়েকশ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভূমিহীনদের পক্ষে আবেদনকারী মো. দুলাল হোসেন বলেন, আমরা ৩৫ বছর ধরে এখানে আছি। সরকার আমাদের থাকতে দিয়েছে। কিন্তু রনজু সরকার নামের ওই কর্মকর্তা টাকার লোভে আমাদের ভিটেমাটি অন্যের নামে লিখে দিয়েছেন। এখন আমরা যাব কোথায়? আমরা এই জালিয়াতির বিচার চাই।
মানবন্ধনে আসা কহিনুর, সালাম, সবুজ, জেল হোসেন, লিটন বলেন, শুধু একই একটি জমি নয় তার কাছে খাজনা খারিজ করতে গেলে টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না। টাকা না দিলে দিনের পর দিন বিভিন্ন ভুল ধরে ঘুরাতে থাকে। কিন্তু টাকা দিলেই সব সমাধান। তারা আরো বলেন, আমাদের কাগজপত্র সঠিক আছে তারপর খাজনা দিতে গিয়ে ৬ জোড়া জুতা ক্ষয় করেছি। এর কারণ তাকে ঘুষ দেয়নি।
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পুলিশ প্রশাসন বরাবর অনুলিপি দিয়েছেন। অসহায় পরিবারগুলো এখন জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা মোঃ রনজু সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অনুলিপি পেয়েছি। তদন্ত করে দোষি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।