রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স-এ অবস্থিত একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক সেলসম্যানকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতের নাম কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক।
বুধবার (১৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জসীম উদ্দিন খান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিআইডি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক থেকে ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় তিনি প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর পিতা বসুন্ধরা সিটির একটি স্বর্ণালঙ্কার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রতিষ্ঠানটির শপিং কমপ্লেক্সে একাধিক দোকান রয়েছে। সম্প্রতি স্টক যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দোকান থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত কৃষ্ণ বসাক প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে মালিকপক্ষের আস্থা ভঙ্গ করে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সরিয়ে ফেলেন।
সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মাসিক আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও কৃষ্ণ বসাকের বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ বিক্রির অর্থে তিনি নিজেই একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। এছাড়া ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং ক্রয়, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার বিনিয়োগ এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণ প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডি বলছে, এসব সম্পদের সঙ্গে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এর আগে একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎ হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।