যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনও শান্তি আলোচনার পরিকল্পনা অস্বীকার করায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে তিনি বলেন, ইরান যদি কোনও চুক্তিতে সম্মত না হয় কিংবা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির ভেতর দিয়ে কোনও কিছুই যাতায়াত করতে পারবে না।
পোস্টে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘চুক্তি অথবা পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সামরিক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ইরানকে ‘দ্বিমুখী’ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প লেখেন, দেশটি প্রকাশ্যে এবং গর্বের সঙ্গে বলছে যে তারা কোনও আলোচনা করছে না। তিনি লেখেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না-ই করুক, বাস্তবে আমরা এমন একটি সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করছি, যা তারা কয়েক দশক ধরে তৈরি করেছে।’
এর আগে গত সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর বড় ধরনের বোমা হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলো এবং তেহরানের অনুরোধেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হবে।
তবে ইরান সে দাবি নাকচ করে দিয়েছে। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে তারা কেবল ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না।
এর জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছিল ইরান। কিন্তু এখন তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘চিরাচরিত বাগাড়ম্বর’ করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে আমরা না চাইলে ইরানের দিকে কিছুই যেতে পারবে না। আর কোনও কিছুই যাবে না, যতক্ষণ না একটি চুক্তিতে সম্মত হয় অথবা ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে।’
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণ-অভ্যুত্থানকে সমর্থন দেয়া।
তবে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পরও ইরান এখনও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও তাদের হাতে রয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চলমান অচলাবস্থায় শক্তিশালী কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে তেহরান।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড